1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
রোজার শুরুতে লোহাগড়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য উর্ধ্বগতি, হতাশ সাধারণ ক্রেতারা। - Gangchil TV
February 20, 2026, 10:47 pm

রোজার শুরুতে লোহাগড়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য উর্ধ্বগতি, হতাশ সাধারণ ক্রেতারা।

Reporter name :
  • আপডেটের সময়: Friday, February 20, 2026
  • 57 সময় দেখুন

 

মো: আজিজুর বিশ্বাস,স্টাফ রিপোর্টার।

 

রমজান এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার যে পুরোনো অভিযোগ, রোজার শুরুতেই তার প্রতিফলন দেখা গেল নড়াইলের লোহাগড়ার কাঁচাবাজারে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের হঠাৎ মূল্য বৃদ্ধিতে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ক্রেতা সাধারণ।

 

অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। কাঁচাবাজার থেকে মুদি, পোশাক থেকে প্রসাধনী-প্রায় সব ক্ষেত্রেই দামের উর্দ্ধগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার খরচে বাড়তি চাপ পড়েছে।

 

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম জুমা ও সরকারি ছুটির দিন। সকাল থেকেই নড়াইলের লোহাগড়া ও লক্ষ্মীপাশা বাজারে কেনাকাটার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

তবে বাজারে গিয়ে দামের চিত্র দেখে হতাশা আর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ ক্রেতা সাধারণ। ক্রেতাদের ভাষ্য, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম আগেই বাড়ানো হয়েছে রমজানকে সামনে রেখে।

 

 

শহরের প্রধান দুটি কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি, গোল বেগুন ১২০ টাকা, টমেটো ৪০–৫০ টাকা, সিম ২০-৩০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, গাজর ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ ৫৫–৬০ টাকা, লেবুর হালি ১০০ টাকা, ফুলকপি ৪০–৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৩০–৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

 

স্হানীয় বাজারে ইফতার সামগ্রীর দামও বেড়েছে। ছোলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বেসন বুটের ৬৫ টাকা, বেসন খেসারীর ডালের ১১০ টাকা। আর প্রকারভেদে খেজুরের দাম বেড়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

এতে করে, মধ্যবিত্ত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে খেজুর ছাড়াই ইফতার সারতে হচ্ছে।

 

বাজারভেদে পণ্যের দামে কিছুটা তারতম্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই স্পষ্ট।

 

অনেক ক্রেতা বলছেন, রমজানে ইফতার ও সেহরির চাহিদা বাড়ে-জেনেই কিছু ব্যবসায়ী আগেভাগে দাম বাড়িয়ে দেন। ফলে রোজার শুরুতেই বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। একারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন খরচের তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

 

এদিকে রোজার শুরুতে লোহাগড়ায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও স্হানীয় প্রশাসনের কোন নজরদারি না থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্রেতা সাধারণ।

 

লক্ষ্মীপাশা চৌরাস্তা বাজারের মুদি দোকানদার তুষার জানান, ‘রোজার শুরুর আগেই বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আমরা বেশি দামে পণ্য কিনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। এনিয়ে ক্রেতা সাধারণের সাথে কমবেশি বাক-বিতান্ড হচ্ছে।

 

লোহাগড়া বাজারের আগত সাধারণ ক্রেতা পলি খানম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন,আমরা ভেবেছিলাম নতুন সরকার এসে বাজারের লাগাম টানতে সক্রিয় হবে, বাস্তবে তা নেই। জনআস্হা ফিরিয়ে আনতে হলে অবশ্যই বাজার মনিটরিংয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

লক্ষ্মীপাশা এলাকার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, আবুল কাশেম, রিয়াজ খাঁনসহ একাধিক ক্রেতা সাধারণের অভিযোগ, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের লাগাম টানতে হলে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। মূলত : মফস্বল এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি কম, তাই বাজার মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি বাড়াতে হবে-তবেই মিলবে সুফল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর