1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
‘নদীর দু’ধারে গাইড ওয়াল করার দাবি’ দখল ও নাব্য সংকটে ঐতিহ্য হারাচ্ছে ভৈরব নদ : হুমকির মুখে নওয়াপাড়ার ব্যবসা-বাণিজ্য - Gangchil TV
June 22, 2026, 3:59 am

‘নদীর দু’ধারে গাইড ওয়াল করার দাবি’ দখল ও নাব্য সংকটে ঐতিহ্য হারাচ্ছে ভৈরব নদ : হুমকির মুখে নওয়াপাড়ার ব্যবসা-বাণিজ্য

Reporter name :
  • আপডেটের সময়: Monday, January 19, 2026
  • 361 সময় দেখুন

‘নদীর দু’ধারে গাইড ওয়াল করার দাবি’

 

দখল ও নাব্য সংকটে ঐতিহ্য হারাচ্ছে ভৈরব নদ : হুমকির মুখে নওয়াপাড়ার ব্যবসা-বাণিজ্য

 

 

 

মফিজুর রহমান, অভয়নগর (যশোর)

 

যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া বন্দর ও ভৈরব নদ একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। শত বছরের পুরোনো এই নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ নদীবন্দর নওয়াপাড়া। সার, সিমেন্ট, কয়লা, খাদ্যশস্যসহ নানা পণ্যের আমদানি-রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই বন্দর একসময় ছিল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মুখর। কিন্তু দখল, দূষণ ও দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ভৈরব নদ। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভৈরব নদ একসময় ছিল প্রমত্তা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা মালামাল খুলনা হয়ে নওয়াপাড়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল করত এই নদীপথে। নওয়াপাড়া বন্দর ছিল দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীটি দখল ও ভরাটের শিকার হয়েছে। নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা, গুদাম, দোকানপাট ও বসতবাড়ি। অনেক স্থানে নদীর স্বাভাবিক প্রশস্ততা কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

 

নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার ফলে বড় বড় পণ্যবাহী জাহাজ ও লাইটার এখন আর আগের মতো ভিড়তে পারছে না। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশে পলি জমে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নওয়াপাড়ার সার, সিমেন্ট, কয়লা ও খাদ্যশস্য ব্যবসার ওপর।

 

 

 

নওয়াপাড়া সার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহ জালাল হোসেন জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে নওয়াপাড়ার সারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নওয়াপাড়া থেকে প্রায় ৮০% ভাগ সার সারা দেশে পরিবেশন করা হয়। একসময় বড় জাহাজে করে সার এসে নওয়াপাড়া বন্দরে খালাস হতো। বর্তমানে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে তবে বেশি সমস্যা হচ্ছে কার্গোজাহাজগুলি ঠিকমত ঘাটে ভিড়তে পারছেনা। ফলে আনলোড করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া নির্ধারিত সময়ে আনলোড করতে না পারলে দিন প্রতি একলাখ টাকা জরিমানা দিতে হয়। ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। যে কারণে আরেক বড় সমস্যা হচ্ছে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তেমনি কৃষকরাও বাড়তি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

 

 

একই অবস্থা সিমেন্ট ও কয়লা ব্যবসায়ীদের। নির্মাণ শিল্পের প্রধান উপকরণ সিমেন্ট ও কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে নওয়াপাড়া বন্দর দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু নাব্য সংকটের কারণে অনেক বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এখন বিকল্প বন্দর ব্যবহারের কথা ভাবছে। এতে নওয়াপাড়ার শত শত শ্রমিক, মাঝি, কুলি ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট মানুষ তাদের জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

খাদ্যশস্য ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চাল, গম ও ভুট্টাসহ নানা খাদ্যশস্য নৌপথে পরিবহন তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। কিন্তু নদীর বর্তমান অবস্থায় নিয়মিত নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সড়কপথে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এতে পণ্যের দাম বাড়ছে, পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকিও বাড়ছে।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ভৈরব নদ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ থাকলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মাঝে মাঝে ড্রেজিংয়ের ঘোষণা এলেও তা হয় খণ্ডিত ও অপরিকল্পিত। ফলে ড্রেজিংয়ের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয় না। নদীর মূল চ্যানেল বাদ দিয়ে অনেক সময় প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে অন্য স্থানে খনন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

পরিবেশবিদরা বলছেন, ভৈরব নদ শুধু বাণিজ্যের জন্য নয়, পরিবেশগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নদী এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম। নদী সংকুচিত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা বাড়ছে, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শহরাঞ্চলে দেখা দিচ্ছে ভয়াবহ পানির চাপ।

 

নওয়াপাড়ার এক প্রবীণ ব্যবসায়ী আ: রহমান বলেন, “ভৈরব নদ না থাকলে নওয়াপাড়া বন্দর কল্পনাই করা যায় না। এই নদীই আমাদের প্রাণ। কিন্তু আমরা যদি এখনই দখলদার উচ্ছেদ ও নিয়মিত ড্রেজিং না করি, তাহলে অচিরেই এই বন্দর তার গুরুত্ব হারাবে।”

 

তার মতে, ভৈরব নদকে বাঁচাতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত, নদীর সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিকল্পিত ও নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। তৃতীয়ত, নদী দূষণ রোধে শিল্পবর্জ্য ও আবর্জনা ফেলার ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশেষ করে নদীর দুই ধারে গাইড ওয়াল দিতে হবে তাহলে কিছুটা সমস্যা সমাধান হবে।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করেন, ভৈরব নদ রক্ষা করা মানেই নওয়াপাড়ার অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ঐতিহ্য রক্ষা করা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শত বছরের ব্যবসায়িক ঐতিহ্য ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে—বাস্তবে আর দেখা যাবে না সেই ব্যস্ত নওয়াপাড়া বন্দর।

 

ভৈরব নদ আজ এক সংকটময় সময় পার করছে। এখনই যদি নদীকে দখলমুক্ত করে তার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা না যায়, তবে শুধু একটি নদী নয়—হারিয়ে যাবে একটি জনপদ, একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক ইতিহাস।

 

 

 

এব্যাপারে নওয়াপাড়া নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

 

 

 

অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেখ সালাউদ্দিন দিপু জানান, নদীর নাব্যতা ঠিক রাখা ও গাইড ওয়াল নির্মাণ করা নদীবন্দরের কাজ, এটি বিআইডব্লিউটিএ করবে। আমি তাদের সাথে কথা বলেছি তাদের একটি প্লান আছে।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর