ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দু’পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জড়ায় গোয়ালনগর গ্রামের রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম মিয়া গোষ্ঠীর হাজারো লোকজন।
নিহতরা হলেন— গোয়ালনগর গ্রামের আক্তার মিয়া (৫০) এবং গোয়ালনগর কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০)।
সংঘর্ষের পটভূমি
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ সময় বিএনপি সমর্থক রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর সদস্য জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই ঘটনার জন্য জিয়াউর রহমান একই গ্রামের কাসেম মিয়া গোষ্ঠীর সদস্য শিশু মিয়াকে দায়ী করে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি শিশু মিয়াকে তার মোটরসাইকেলসহ আটক করে মারধর করা হয় এবং মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৮ মার্চ প্রথম দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ভয়াবহ সংঘর্ষ ও প্রাণহানি
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল থেকে উভয়পক্ষ রামদা, টেঁটা, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গোয়ালনগর ইউনিয়নের স্কুলপাড়া, লালুয়ারটুকু, দক্ষিণদিয়া, শিবপুর, জামারবালি, মাইজখোলা, কদমতলী, মাছমা ও রামপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে অংশ নেয়।
প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে প্রথমে রহিম গোষ্ঠীর সদস্য আক্তার মিয়া নিহত হন। পরে সংঘর্ষ থামাতে গেলে গুরুতর আহত হন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান। তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত ও চিকিৎসা পরিস্থিতি
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন গুরুতর আহত রোগী ভর্তি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, “আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
প্রশাসনের বক্তব্য
গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বলেন, “দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, “পূর্ব বিরোধের জেরে দু’পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুইজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।