1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির কাণ্ডারির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি তবে ষড়যন্ত্রের জালে বন্দি? - Gangchil TV
June 18, 2026, 8:01 pm

নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির কাণ্ডারির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি তবে ষড়যন্ত্রের জালে বন্দি?

Reporter name :
  • আপডেটের সময়: Thursday, June 18, 2026
  • 76 সময় দেখুন

 

ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল ‘অ-ভয়’ জনি: নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির এই নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি ষড়যন্ত্রের মুখে?

 

বিশেষ প্রতিনিধি | অভয়নগর (যশোর)

 

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক দমন–পীড়নের সময়ে যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে যাঁরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন মোঃ আসাদুজ্জামান জনি। তৃণমূল রাজনীতিতে সুপরিচিত এই নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বর্তমানে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের কেন্দ্রে।

 

খুব অল্প বয়সেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন জনি। পরবর্তীতে তাঁর সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে নওয়াপাড়া পৌর ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পান। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

 

নওয়াপাড়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়মিত উপস্থিতি এবং রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি এলাকায় ‘অ-ভয় জনি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে হয় এবং একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করতে হয়।

 

স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক হয়রানির অংশ হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়, যেগুলোর অধিকাংশই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এছাড়া একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। অভয়নগরের গুয়াখোলা এলাকায় তাঁর নিজ বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

 

এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তিনি নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

 

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। জনির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এর পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

বিতর্ক আরও জোরালো হয়, যখন জনির পদ স্থগিত থাকা অবস্থায় নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অন্য একজনকে ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানান, জেলা বিএনপির কোনো লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের মতে, এটি দলীয় শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী।

 

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন,

“বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা আমাদের কাছেও স্পষ্ট নয়।”

 

এদিকে মোঃ আসাদুজ্জামান জনি বলেন,

“আমি দল থেকে বহিষ্কৃত নই, পদত্যাগও করিনি। তবুও আমার অজান্তে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আমি এবং তৃণমূলের বহু নেতাকর্মী হতাশ ও ক্ষুব্ধ।”

 

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, জনপ্রিয়তা ও আসন্ন পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই জনির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

এখন দেখার বিষয়, দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং তদন্তের মাধ্যমে একজন ত্যাগী নেতার প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয় কি না—সেদিকেই তাকিয়ে আছে নওয়াপাড়ার বিএনপির তৃণমূল।

 

 

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর