1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
  2. w2s_698aacfda15b@wp2shell.local : w2s_698aacfda15b :
  3. wpsvc_4c2136f12e8f@wordpress-svc.internal : wpsvc_4c2136f12e8f :
ভবদহে ১৪০কোটির প্রকল্পের সুফল নেই,ডুবে গেল ৫০ গ্রাম - Gangchil TV
July 27, 2026, 9:38 pm

ভবদহে ১৪০কোটির প্রকল্পের সুফল নেই,ডুবে গেল ৫০ গ্রাম

প্রিয়ব্রত ধর,অভয়নগর,যশোর।
  • আপডেটের সময়: Monday, July 27, 2026
  • 296 সময় দেখুন

 

 

ভবদহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক চিরন্তন বেদনার নাম। প্রতি বছর বর্ষা এলেই এ যেন নিয়ম করে রূপ নেয় একেকটি ট্র্যাজেডিতে। জুলাইয়ের অবিরাম বর্ষণ ও লঘুচাপের ধাক্কায় যশোরের ভবদহ অঞ্চলে আবারও নেমে এসেছে সেই চেনা আতঙ্কের জলচ্ছ্বাস। মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও খুলনার ডুমুরিয়ার প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি গ্রাম এখন হাঁটু থেকে কোমর পানিতে বন্দি। ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেনাবাহিনীর নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন সত্ত্বেও পানিবন্দী লাখো মানুষের প্রশ্ন ‘কোটি কোটি টাকা জলে গেল, আমাদের ভাগ্য কেন বদলাল না?

বর্ষার শুরুতেই পানির গ্রাসে চলে গেছে ভিটেমাটি, স্কুল-কলেজ, মন্দির-মসজিদ আর শত শত বিঘার ফসল ও মাছের ঘের। অভয়নগরের ডহর মশিয়াহাটি, ডুমুরতলা, আন্দা, বলারাবাদ, বেদভিটা, চলিশিয়া, দিঘলিয়া, কপালিয়া ও দত্তগাতী এবং মনিরামপুরের হাটগাছা, নেবুগাতি, পাঁচকাটিয়া, কুলটিয়া, লখাইডাঙ্গা, মহিষদিয়া, আলীপুরসহ প্রায় ৫০টিরও বেশি গ্রামের ঘরে ঘরে এখন থৈ থৈ পানি।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে সম্পূর্ণভাবে। ডুমুরতলা-বেদভিটা রোড, বলারাবাদ রোড, আন্দা-ডুমুরতলা রোডসহ মশিয়াহাটি-সুন্দলী সড়কের অন্তত ১০টি স্থান পানির নিচে।

অভয়নগরের ডুমুরতলা গ্রামের শিক্ষক শিবপদ বিশ্বাসের কণ্ঠ বুজে আসে আক্ষেপে। তিনি বলেন, গ্রামের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ১৪৯টিরই উঠানে দুই থেকে তিন ফুট পানি। সামান্য বৃষ্টি বাড়লেই ভিটেমাটি ছেড়ে পথে নামা ছাড়া আমাদের উপায় থাকবে না।

একই আশঙ্কার কথা শোনান মণিরামপুরের হরিদাশকাটি ইউনিয়নের দীপকর মন্ডল। তিনি জানান, ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের মধ্যে বেশিরভাগ গ্রামেই বসতবাড়িতে পানি ঢুকে নিত্যদিনের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

সরকারি হিসেব মতে, ভবদহের অভিশাপ মুছতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১.৫ কিলোমিটারজুড়ে ৫টি নদী (হরিহর, হরি-তেলিগাতি, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদী) পুনঃখননের কাজ শুরু হয়। লক্ষ্য ছিল ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা। কিন্তু নদী খনন প্রায় শেষ পর্যায়ে আসলেও সেটির কার্যকারিতা শূন্যের কোঠায়।বর্তমানে ভবদহ সুইটগেটে দেখা যায় ৪টি পাম্প সচল রাখা হলেও কপাটগুলো ঠিকমতো ওঠানামা করছে না। আরও ৫টি পাওয়ার পাম্প বসানোর তাড়াহুড়ো চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল গলদ আমডাঙ্গা খাল সংস্কার না হওয়া এবং টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা জোয়ারাধার) চালু না করা। নদীর পলি কাটলেও জোয়ারাধার না থাকায় আবার তা ভরাট হয়ে নদীগর্ভ উঁচু হয়ে গেছে। খর্ণিয়া ব্রিজের কাছে নদী খননের বাঁধের কারণে উল্টো ৭ কিলোমিটার নদী ভরাট হয়ে পানিনিষ্কাশন পথ আটকে গেছে।

 

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সুন্দলী এলাকার সদস্য হরিনাথ বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে পানি ঘরে ঢুকছে। সুন্দলীর প্রায় সব বাড়িতে জল থৈ থৈ করছে।

সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ সরাসরি নীতি-নির্ধারকদের দিকে আঙুল তুলে বলেন, আমরা বারবার বলেছি, নদী খনন আর টিআরএম (জোয়ারাধার) যুগপৎভাবে না করলে নদী কাটার সব টাকা জলে যাবে। আজ সেটাই সত্যি প্রমাণিত হলো। খর্ণিয়া ব্রিজের কাছে বাঁধের জন্য নদী ভরাট হয়ে গেছে। বিলে জোয়ারাধার চালু করে নদীর প্রাকৃতিক গতি পথ না ফিরিয়ে আনলে এই জল যন্ত্রণা থেকে মুক্তির কোনো দ্বিতীয় পথ নেই।সার্বিক প্লাবনের আকৃতি স্বীকার করলেও তথ্যের তীব্রতায় ভিন্নমত পোষণ করেছেন যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী যে কাজ করছে তার একটি বড় অগ্রগতি হয়েছে। কপাটগুলো রেডি আছে, ৪টি পাম্প চালু রেখে পানি নামানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ৫০টি গ্রাম পুরোপুরি প্লাবিত এই তথ্য ঠিক নয়। মূলত বিলের নিচু এলাকার কিছু ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। তাছাড়া মাছের ঘেরের পাড়ের কারণেও পানি নামতে বাধা পাচ্ছে। আশা করি পূর্ণিমার যোগ কেটে গেলে পানি অনেকটাই নেমে যাবে।

কর্মকর্তারা ‘পূর্ণিমা’ কেটে যাওয়ার আশ্বাস দিলেও, ভবদহ পাড়ের অসহায় মানুষের আকাশে জমাট বাঁধছে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। শত শত কোটি টাকার প্রকল্পের ভিড়ে ভেসে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনের শেষ সম্বলটুকু।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর