যশোর প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত ভবদহ অঞ্চলের মানুষের জন্য আশার আলো দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে চলমান নদী খনন প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় অক্টোবর ২০২৫ সালে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন ২০২৬-এর মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে; তবে প্রয়োজনে সময়সীমা জুন ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
প্রকল্পের আওতায় ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পাঁচটি নদীর মোট ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে। নদীগুলো হলো—হরিহর, হরি–তেলিগাতি, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদী। এর মধ্যে হরি ও তেলিগাতি নদীর প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং টেকা নদীর ৭ কিলোমিটার অংশে খনন কার্যক্রম পুরোদমে চলছে।
বিশেষ করে শোলমারি ব্রিজ থেকে শিপসা মোহনা পর্যন্ত অংশে পলি অপসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর ড্রেজার ও এক্সকাভেটর দিয়ে নদীর তলদেশে জমে থাকা পলি সরিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ চলমান রয়েছে, যাতে বর্ষা মৌসুমের আগেই পানি নিষ্কাশনের পথ সচল হয়।
নদী থেকে উত্তোলিত মাটি পরিকল্পিতভাবে নদীর পাড়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব মাটি স্থানীয় যোগাযোগ সড়ক নির্মাণ ও বাঁধ শক্তিশালীকরণে ব্যবহার করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে গত মার্চ ২০২৬-এ এক সরকারি নির্দেশনায় নদী ও খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং স্লুইস গেটগুলো কার্যকর রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেনাবাহিনীর খনন কাজের সুফল দ্রুত পাওয়া যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। চলমান এই প্রকল্প সময়মতো শেষ হলে ভবদহ অঞ্চলের মানুষ স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।