ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :
প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষের বসবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায়। জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে চান্দুরা–আখাউড়া সড়কের বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের লক্ষীপুর অংশ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কালীবাড়ি মোড় পর্যন্ত (সিমনা–ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ‘শেখ হাসিনা সড়ক’ নির্মাণ করা হয়। এটি জেলা শহরের পূর্বাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।
তবে এই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। নির্ধারিত ভাড়া তালিকা কার্যকর না থাকায় চালকরা ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে এবং যাত্রী ও চালকদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও বিজয়নগর–ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে সেই ভাড়া বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, একাধিকবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সিএনজি ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি।
একপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সিএনজি ভাড়া ২০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। ঈদের পর থেকে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বাস্তবে কোথাও ১০ টাকা কমানো হয়েছে, আবার কোথাও ভাড়া অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এতে যাত্রীরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিজয়নগর ও শিমরাইকান্দি এলাকায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করে এবং সিদ্ধান্তের বিরোধিতা হলেই সিএনজি চলাচল বন্ধ করে দেয়। তখন যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা হয়।
সিএনজি চালকদের দাবি, বিভিন্ন স্থানে সিন্ডিকেটের নামে চাঁদাবাজি, গ্যাস ও যন্ত্রাংশের মূল্য বৃদ্ধি এবং মালিকদের অতিরিক্ত চাপে কম ভাড়ায় চলাচল করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, ঈদের পর ভাড়া কমানোর বিষয়ে সিএনজি কমিটির সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। ভাড়া নির্ধারণ করে তা অমান্য করা আইনসঙ্গত নয়। নতুন ইউএনও যোগদান করেছেন, তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে যাত্রী ভোগান্তি নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দ্রুত নির্দিষ্ট ভাড়া তালিকা প্রণয়ন, তা দৃশ্যমান স্থানে টানানো এবং কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় সচেতন মহল।