1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
যশোরে জনসমুদ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে বদলে যাবে বাংলাদেশ - Gangchil TV
April 27, 2026, 6:25 pm

যশোরে জনসমুদ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে বদলে যাবে বাংলাদেশ

Reporter name :
  • আপডেটের সময়: Monday, April 27, 2026
  • 23 সময় দেখুন

যশোরে জনসমুদ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে বদলে যাবে বাংলাদেশ

 

৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উলশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন ও ঈদগাহ ময়দানের মহাসমাবেশ ঘিরে উন্নয়ন-রাজনীতির বহুমাত্রিক বার্তা

 

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:

যশোরে একদিনে উন্নয়ন, রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনৈতিক বার্তার এক বিরল সমন্বয় দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে। ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ উদ্বোধন, উলশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির সূচনা এবং বিকেলে ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে বিশাল জনসমুদ্রে দেওয়া ভাষণ—সব মিলিয়ে দিনটি যশোরের রাজনৈতিক ও উন্নয়ন ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু একটি সফর নয়, বরং উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির এক প্রকাশ।

সোমবার দুপুরে শার্শায় ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ৫০০ শয্যার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ১০ তলাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন, চিকিৎসক ও ইন্টার্নদের হোস্টেল, নার্সিং কলেজ, স্টাফ ডরমেটরি, আবাসনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালটি চালু হলে যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইলসহ বৃহত্তর অঞ্চলের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবার আওতায় আসবে।

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকার শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, একটি মানবিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কৃষিকে তিনি সরকারের উন্নয়ন দর্শনের মূলভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ‘জুলাই সনদ’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই গড়ে তোলা হবে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।

এরপর শার্শার উলশী এলাকায় উলশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। কোদাল দিয়ে মাটি কেটে কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে তিনি কৃষি পুনরুজ্জীবন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বার্তা দেন। দীর্ঘদিন অবহেলায় ভরাট হয়ে যাওয়া এই খাল পুনরুজ্জীবিত হলে কৃষি, সেচ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় পরিবর্তন আসবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খননের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, পানি, কৃষি ও মানুষ—এই তিনকে কেন্দ্র করেই সরকারের উন্নয়ন দর্শন আবর্তিত হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন এমন হতে হবে যাতে শহর ও গ্রামের বৈষম্য কমে, গ্রাম উৎপাদনের কেন্দ্র এবং শহর সুযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। নারী শিক্ষা, ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নারীপ্রধান পরিবারকে সহায়তা কর্মসূচির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। মেয়েদের ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার উদ্যোগ, কৃষিঋণ মওকুফ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি সম্মানির ঘোষণাও দেন তিনি। এসব উদ্যোগকে অনেকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের বার্তা হিসেবে দেখছেন।

দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বিকেলে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভা। দুপুর থেকেই যশোর ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয় মানুষের ঢল। আয়োজকদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে যশোরে এত বড় রাজনৈতিক সমাবেশ আর হয়নি।

জনসমুদ্রে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং সেই চেতনার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি ‘জুলাই সনদ’-কে কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরে বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে, এখন সময় সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার। তাঁর ভাষায়, সংস্কার, উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র—এই তিন ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে আগামীর বাংলাদেশ।

ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল উন্নয়ন ব্যাহত করতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে, তবে জনগণই সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর পেছনে ফেরার দেশ নয়, এই দেশ সামনে এগোবে এবং উন্নয়নের গতিধারা থামবে না। ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে যখন সমাজের সব শ্রেণির মানুষ মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবে।

সিঙ্গাপুরের উন্নয়নের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে বাংলাদেশও দ্রুত উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। যশোরের জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই জনপদ আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক চেতনার উর্বর ভূমি এবং দেশ গড়ার অভিযাত্রায় যশোর অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি নতুন স্লোগান দেন—“করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।” সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থল করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। হাজারো মানুষ মোবাইল ফোনে সেই মুহূর্ত ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু দলীয় শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ ছিল না, বরং সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও রাষ্ট্রচিন্তারও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করেছে। একই দিনে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি অবকাঠামো এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে একই সূত্রে গেঁথে প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন, তা নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’কে কেন্দ্র করে যে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ধারণা তিনি সামনে এনেছেন, তা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে, যশোর সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুধু দুটি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন বা একটি জনসভায় ভাষণ দেননি; তিনি উন্নয়ন, সংস্কার, কৃষি পুনরুজ্জীবন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় ঐক্যের যে সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেছেন, তা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। যশোরের ঈদগাহ ময়দানের জনসমুদ্র তাই কেবল একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রচিন্তারও প্রতীকী উচ্চারণ হয়ে থাকল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর