খুলনা ফুলতলা থেকে এস এম মমিনুর রহমান
ফুলতলায় এক যুবককে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে নির্জন কক্ষে আটকে রেখে মারধর, নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের নারীসহ তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
একই সাথে ভিকটিম যুবককেও উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৯ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফুলতলা বাজারের জামিরা সড়কের ঢাকা আবাসিক হোটেলের মালিক বিল্লাল হোসেন সজিবের বাড়িতে এই অপরাধমূলক ঘটনাটি ঘটে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, যশোরের কোতোয়ালী থানার ইচ্ছাপুর গ্রামের মোঃ মিলন হোসেন (৩৮) কে আসামি সাবিনা বিশ্বাস ওরফে রিয়া বিশ্বাস (৩০) কে ডেকে ফুলতলার উক্ত বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সাবিনা বিশ্বাস, ঝুমুর জমাদ্দার (৩২), দৈনিক ফুলতলা প্রতিদিন পত্রিকা প্রতিনিধি মোঃ সুমন মিয়া (৩৬) এবং তাদের অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন সহযোগী পরস্পর যোগসাজশে মিলন হোসেনকে জিম্মি করে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে। পরবর্তীতে আসামিরা ভিকটিমকে বেধড়ক মারধর করে, ও জোরপূর্বক তাঁর নগ্ন ভিডিও ধারণ করে এবং জিম্মি করে ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ভিকটিমের ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে চক্রটির ৩ নম্বর আসামি সুমন মিয়া পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফুলতলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিকটিম মিলন হোসেনকে উদ্ধার করে এবং জড়িতদের হেফাজতে নেয়। আটককৃত আসামিরা হলেন যশোর অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া বৌ-বাজারের আব্দুল মজিদ মোড়লের মেয়ে সাবিনা বিশ্বাস ওরফে রিয়া বিশ্বাস, ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের (বর্তমানে ঢাকা আবাসিক হোটেল মালিকের ভাড়াটিয়া) আঃ রশিদ জমাদ্দারের মেয়ে ঝুমুর জমাদ্দার। এবং খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে মোঃ সুমন মিয়া (৩৬)।
এই সুমন মিয়া সম্পর্কে জানতে পারি তিনি স্থানীয় একটি আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক ফুলতলা প্রতিদিনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতো বলে জানা যায়। ঘটনায় ভিকটিম মোঃ মিলন হোসেন বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(২)/৮(৭) ধারায় ফুলতলা থানায় মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং- ৬, জিআর- ৬৯, তারিখ- ৩০/০৭/২০২৬ খ্রিঃ)।
এদিকে এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক দৈনিক ফুলতলা প্রতিদিনের পেইজ থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
