কবিতাঃআত্ম-চিৎকারের তরঙ্গ।
কলমে✑ ওয়াজিয়া ইসলাম।
আমার আত্ম-চিৎকার, তোমার কাছে শব্দ দূষণ,
আমার ভাঙা ভিতরটা—তোমার কাছে শুধু বিকৃত অনুরণন।
আমি যখন ভেঙে পড়ি শব্দের তীব্র কম্পনে,
তুমি তখন কান ঢেকে রাখো—নিজের নীরব স্বস্তির গম্বুজে।
পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে আমি এক তরঙ্গ মাত্র,
ফ্রিকোয়েন্সি মেলেনি বলে তুমি হও নির্লিপ্ত দর্শক।
আমার কণ্ঠের কম্পন তোমার সুরে বাঁধা পড়েনি,
তাই আমার আর্তনাদ—তোমার মনে পৌঁছায়নি।
মনোবিজ্ঞানের দেয়ালে তুমি তুলে দাও ফিল্টার,
আমার কষ্টগুলো হয়ে যায় তোমার কাছে “noise” আর বিরক্তির।
তুমি বেছে নাও শুধু শান্তির মৃদু কম্পন,
আমি ঝড় হয়ে এলে—তুমি বদলে যাও নির্জন।
তবু প্রকৃতি শেখায়, শব্দ ছাড়াও হয় অনুভব,
গাছেরা নীরবে বলে যায় তাদের দুঃখের সব।
রাসায়নিক ভাষায় তারা পাঠায় সংকেত গভীর,
একটি গাছের ব্যথায় জেগে ওঠে আরেকটি সমীর।
আমি যদি হতাম কোনো বৃক্ষ, মাটির গভীর শিকড়ে,
তুমি হয়তো বুঝতে আমার কষ্ট নীরব সংকেতে ঘিরে।
আমার শুকিয়ে যাওয়া পাতা, আমার ভাঙা ডাল,
তোমার চোখে পড়ত—হতো না অবহেলার জাল।
কিন্তু আমি মানুষ, শব্দেই বাঁধা আমার আর্তি,
তাই উচ্চস্বরে বললেই হারায় তার অর্থের ভারতি।
সবচেয়ে গভীর কষ্টই হয় সবচেয়ে ভুল বোঝা,
কারণ তা চিৎকার হয়ে ওঠে—সহ্য হয় না কারো কাছে সে ভাষা।
তাই আমার আত্ম-চিৎকার, তোমার কাছে শব্দ দূষণ,
আমার বেঁচে থাকার চেষ্টা—তোমার কাছে শুধু বিভ্রান্তি আর ক্লান্তি রচন।
কিন্তু আমার ভেতরে এটাই শেষ আলো জ্বালানো,
ধ্বংসের ভেতর থেকেও নতুন বীজ ছড়ানো।
যেমন বনভূমি জ্বলে উঠে শেষ আগুনের স্পর্শে,
তবু বীজ রেখে যায় ভবিষ্যতের গোপন রূপকল্পে,
আমার এই চিৎকারও তেমন—শেষ নয়, এক সূচনা,
শব্দের ভেতর লুকানো—একটি নীরব পুনর্জন্মের রচনা।