১১ অক্টোবর কুমারঘাটায় চক্ষু পরীক্ষা, ছানি রোগী বাছাই; নির্বাচিতদের অস্ত্রোপচার, লেন্স, ওষুধ ও চশমা বিনামূল্যে
চোখের চিকিৎসার ব্যয় ও দূরত্বের কারণে গ্রামীণ জনপদের অনেক মানুষ সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। বিশেষ করে বয়স্ক ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের মধ্যে ছানি ও দৃষ্টিজনিত নানা সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে নীরবে ভোগান্তির কারণ হয়ে আছে। এমন বাস্তবতায় যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৭ নম্বর মনোহরপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি রোগী বাজাই ক্যাম্প।
আগামী ১১ অক্টোবর সকাল ৮টায় কুমারঘাটা দাখিল মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। ক্যাম্পে মনোহরপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পে আগত রোগীদের চোখ পরীক্ষা, দৃষ্টি ত্রুটি শনাক্তকরণ ও চোখের প্রেসার পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও রক্ত পরীক্ষা এবং চোখের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ছানি অস্ত্রোপচারের উপযোগী রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করা হবে।
ক্যাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে—শুধু প্রাথমিক পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ দিয়েই কার্যক্রম শেষ হবে না। বাছাই করা ছানি রোগীদের পরবর্তী চিকিৎসার আওতায় নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচিত রোগীদের ছানি অস্ত্রোপচার, প্রয়োজনীয় লেন্স, এক মাসের ওষুধ ও চশমা বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া নির্বাচিত রোগীদের যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়ার সুবিধা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের জন্য ছানি অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্যাম্পে প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে চশমা বিতরণের ব্যবস্থাও থাকবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্বল্পমূল্যে সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে একই স্থানে রোগীদের চোখের পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ক্যাম্পটির আয়োজন ও সমন্বয়ে রয়েছেন ১৭ নম্বর মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. মেহেদী হাসান সুমন। সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে সাতক্ষীরার কাশেমপুর তালতলা বাজারস্থ গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতাল।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মনোহরপুর ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকার মানুষ এ ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রবীণ এবং চিকিৎসাসেবাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামীণ এলাকায় চোখের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখনও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতায়াতের সমস্যা এবং চোখের রোগ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে অনেকে দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগলেও চিকিৎসা নেন না। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের মধ্যে ছানি রোগের কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার ঘটনাও কম নয়।
স্থানীয়দের মতে, কুমারঘাটায় এ ধরনের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজনের ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় চোখের চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চোখের সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি ছানি রোগীদের বাছাই করে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনার উদ্যোগটি দরিদ্র রোগীদের জন্য বিশেষ উপকার বয়ে আনতে পারে।
আয়োজকরা মনোহরপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার চক্ষু সমস্যায় ভুগছেন এমন সবাইকে ১১ অক্টোবর সকাল ৮টায় কুমারঘাটা দাখিল মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে এ বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের সেবা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।