রানা আহমেদ: নিজস্ব সংবাদদাতা।
যশোরে ক্লুলেস হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন সৌরব হোসেন তুষারকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬, যশোর ক্যাম্প। মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) ভোর ৬টা ৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬, সিপিসি-৩-এর একটি আভিযানিক দল যশোরের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন রাজারহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় আল আমিন হোসেন (২৯) হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া সন্দেহভাজন আসামি মো. সৌরব হোসেন তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তুষার যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার পূর্ব বারান্দীপাড়া এলাকার মো. জামাল হোসেন ও পলি খাতুনের ছেলে।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত আল আমিন হোসেন পেশায় স্বর্ণের কারিগর ছিলেন। চৌরাস্তা মোড়ে তার একটি স্বর্ণের দোকান রয়েছে। গত ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি দোকানে যান। কিছুক্ষণ পর অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে জানান, একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। এজন্য দ্রুত বারান্দীপাড়ার লিচুতলা এলাকায় যেতে বলা হয়।
ফোন পেয়ে আল আমিন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাসা কিংবা দোকানে ফেরেননি। একই দিন বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে পরিবারের সদস্যরা খবর পান, আল আমিনকে হত্যা করে লিচুতলা মাদ্রাসার পেছনে বাবুর মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়েছে।
পরে পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে আল আমিনের গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
যশোর র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. ফজলে রাব্বি জানান, র্যাব ফোর্সেস নিয়মিত মামলার আসামি, ওয়ারেন্টভুক্ত ব্যক্তি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আল আমিন হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন করে মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার তুষারকে কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।