ডেস্ক রিপোর্টঃ
যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি ধর্মীয় মাহফিলকে ঘিরে ব্যতিক্রমধর্মী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশিষ্ট আলোচক আমির হামজা–এর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মাহফিলে উপস্থিত দর্শক ও গণমাধ্যমকর্মীদের একাংশ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
মাহফিল চলাকালীন সময়ে দেখা যায়, উপস্থিত অনেক দর্শকের হাতে থাকা মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি যারা ভিডিও ধারণ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করার চেষ্টা করছিলেন, তাদের বিরত রাখতে আয়োজক পক্ষের কিছু সহযোগী লেজার লাইট ব্যবহার করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ভিডিও বন্ধ করতে বলেন। এমনকি কয়েকজন লাইভ সম্প্রচারকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে লাইভ বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয় বলে অভিযোগ উঠে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন দর্শক ও গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করে বলেন, একটি ধর্মীয় মাহফিল—যেখানে কুরআনের বাণী ও ইসলামের দাওয়াত প্রচার করা হয়—সেখানে এ ধরনের কড়া নিয়ন্ত্রণ ও গোপনীয়তা আরোপের যৌক্তিকতা তাদের বোধগম্য নয়। তাদের মতে, ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ততা গুরুত্বপূর্ণ; এমনকি হাদীসে রয়েছে, “একটি বাণী হলেও তা পৌঁছে দাও।”
তারা আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি মাহফিলে ভিডিও ধারণ বা লাইভ সম্প্রচার নিষিদ্ধ থাকে, তবে তা আগে থেকেই পোস্টার বা প্রচারণায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি কেন। আগাম ঘোষণা না থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলেও তারা মনে করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিষয়টির যৌক্তিক ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আয়োজক কমিটি কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।