অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় এক ‘মামলাবাজ’ চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রোববার (১৭ মে) নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নওয়াপাড়া সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. মনিরুল গাজীর পক্ষে মোঃ সালেহ আহমেদ । তিনি অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই আবু বক্কার গাজী দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে হয়রানি করে আসছেন। মামলাবাজ আবু বক্কার গাজীর নেতৃত্বে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে, যার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চলতি বছরের ১২ মে আবু বক্কার গাজী বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–১৪)। ওই মামলায় মো. মনিরুল গাজী, তার ভাই মো. মারুফুজ্জামান, স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নাছমিনা বেগমকে আসামি করা হয়।
এছাড়া ২০২৫ সালের ৮ জুলাই যশোরের অভয়নগর আমলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে। ওই মামলায় বুইকারা গ্রামের মির্জা মোল্যা, মো. ফজলুর রহমান, বাবর আলী ও সামাদ খাঁকে আসামি করা হয়েছে।
বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পেঁপে গাছ কাটা ও প্রাণনাশের হুমকির মিথ্যা অভিযোগ তুলে বুইকারা গ্রামের ফজলুর রহমান ও তার ছেলে হৃদয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। একইভাবে ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ব্যবসায়ী মফিজুর রহমানের কাছে মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও তোলা হয়, যার নথিভুক্ত প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আবু বক্কার গাজীর এসব কর্মকাণ্ডে তার কয়েকজন আত্মীয় ও সহযোগী জড়িত রয়েছে। তারা নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিরীহ ও অসহায় মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে এবং টাকা না দিলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে।
ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আবু বক্কার গাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে নেওয়া তার প্রতিবন্ধী কার্ডটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে বাতিলেরও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।