1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
  2. w2s_44b0d04ada8c@wp2shell.local : w2s_44b0d04ada8c :
  3. w2s_698aacfda15b@wp2shell.local : w2s_698aacfda15b :
  4. wpsvc_4c2136f12e8f@wordpress-svc.internal : wpsvc_4c2136f12e8f :
ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভে মুখরিত সাতক্ষীরা শহর - Gangchil TV
August 6, 2026, 3:09 am

ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভে মুখরিত সাতক্ষীরা শহর

Reporter name :
  • আপডেটের সময়: Friday, December 19, 2025
  • 769 সময় দেখুন

মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে সাতক্ষীরায় সর্বদলীয় ছাত্রদের উদ্যোগে গায়েবানা জানাজা ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা শহরের খুলনার মোড় সংলগ্ন আসিফ চত্বরে এই গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

গায়েবানা জানাজায় ইমামতি করেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান। জানাজায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনসহ সর্বদলীয় ছাত্রদের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে শরীফ ওসমান হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

জানাজা শেষে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আসিফ চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘ভারতের আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ’, ‘আওয়ামী লীগের দালালের হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘লাল জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার’, ‘আমরা সবাই হাদী হব, গুলির মুখে কথা ক’ব’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’সহ বিভিন্ন স্লোগানে সাতক্ষীরা শহর মুখরিত করে তোলে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম, শহর শিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান, সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান, সমন্বয়ক আরাফাত হোসেন, নাজমুল হোসেন রনি প্রমুখ।

প্রতিবাদ সভায় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ইতিহাসের পাতায় বারবার দেখা গেছে ফ্যাসিবাদীরা গুপ্তহত্যার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে চায়। যারা ফ্যাসিবাদ, জুলুম ও কালচারাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তাদের নিশ্চিহ্ন করতে নীলনকশা করা হয়েছে। শরীফ ওসমান হাদীকেও সেই নীলনকশার অংশ হিসেবেই হত্যা করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পর অনেকেই নৈতিকতা বিসর্জন দিলেও আমাদের নেতা হাদী নৈতিকতার সর্বোচ্চ অবস্থানে অবিচল ছিলেন।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের মধ্যে শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন অন্যতম। মধ্যযুগীয় কায়দায় তাঁর মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, যা দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বক্তারা অভিযোগ করেন, হাদীর জনপ্রিয়তা গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়লে একটি পক্ষ তা মেনে নিতে পারেনি। ফ্যাসিবাদী শক্তি ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই তাঁকে শহীদ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

এদিকে একই দিন শহরের খুলনা রোড মোড়ে এনসিপির উদ্যোগে আরেকটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপি সাতক্ষীরার প্রধান সমন্বয়ক কামরুজ্জামান বুলু, সাতক্ষীরা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি আরিফুর রহমান আলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম, জাতীয় যুবশক্তি সাতক্ষীরার আহ্বায়ক আবু সাইদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সালেহা আকতার, মেহজাবিন জুনা, রাদিত হাসান, রাকিব বিল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ড একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এই হত্যার মাধ্যমে জনগণের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা চলছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা অবিলম্বে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে শরীফ ওসমান হাদীকে গুলি করা হয়। গুলিটি তাঁর মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর