1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
  2. w2s_44b0d04ada8c@wp2shell.local : w2s_44b0d04ada8c :
  3. w2s_698aacfda15b@wp2shell.local : w2s_698aacfda15b :
  4. wpsvc_4c2136f12e8f@wordpress-svc.internal : wpsvc_4c2136f12e8f :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে যশোরে জিওয়াইএলএফের সেমিনার অনুষ্ঠিত ‎ - Gangchil TV
October 9, 2026, 10:43 pm

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে যশোরে জিওয়াইএলএফের সেমিনার অনুষ্ঠিত ‎

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:
  • আপডেটের সময়: Friday, October 9, 2026
  • 17 সময় দেখুন

এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের ডাকাতিয়া ইব্রাহিম উচ্চ বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার করেছে গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারস্ ফোরাম (জিওয়াইএলএফ) বাংলাদেশের যশোর টিম। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় রাইজএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের ১৯ জন শিক্ষক এবং দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীসহ মোট ১৭০ জন অংশ নেন। যশোর টিমের টিম লিডার জেসান গাঠিয়া ও মার্ক মৈনাক রাব্বির নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি দল সেমিনারটি পরিচালনা করেন। এতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি, এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ এবং মশার বংশবিস্তার রোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা ও ব্যবহারিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

‎সেমিনারে জিওয়াইএলএফের যশোর টিমের অংশগ্রহণকারী সদস্যরা হলেন জেসান গাঠিয়া, মার্ক মৈনাক  রাব্বি, ক্রিশ ম্যাথিউ, ইমন বিশ্বাস, মন্দির রাজোত্তা, স্বাধীন বিশ্বাস, স্বপ্ন বিশ্বাস ও হ্যাপি সরকার। তাঁদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রতিরোধমূলক অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
‎ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। বাড়িঘরের আশপাশে ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত বোতল, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার ও পানির ট্যাংকে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। এসব স্থানে পানি জমতে না দেওয়া, পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব।
‎সেমিনারে বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে শরীর ঢাকা পোশাক পরা, প্রয়োজনে অনুমোদিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার এবং দরজা-জানালায় মশা প্রতিরোধক জাল লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে মশা প্রতিরোধের ব্যবহারিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৃথক প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়নি।
‎ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে ফুসকুড়ি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। জ্বর কমে গেলেও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
‎ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জিওয়াইএলএফ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণেরা পরিবার ও সমাজে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।
‎জিওয়াইএলএফ বর্তমানে যশোরসহ ঢাকা, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সংগঠনটি বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
‎সংগঠনটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর জন সাব্বির রানার নেতৃত্বে জিওয়াইএলএফ বাংলাদেশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
‎আয়োজকদের তথ্যমতে, সেমিনারের দলীয় ছবি, কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও এবং দলনেতার বক্তব্যের ভিডিও সংরক্ষণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
<span;>‎ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে আয়োজক সংগঠন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর