জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর :
দেশের জ্বালানি সরবরাহে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও তেলের কালোবাজার রোধের জন্য সরকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল ক্রয়ের নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় মোট ৫টি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রতিটি ক্রেতা ও ফিলিং স্টেশনকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মোটরসাইকেল প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার তেল নিতে পারবে। এছাড়া অন্যান্য শর্তে রয়েছে: গাড়ির জন্য নির্ধারিত লিটার সীমা, পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা, লেনদেনের নির্দিষ্ট সময়সূচি, ফিলিং স্টেশনের রেকর্ড রাখা এবং নিয়মের অমান্যকারী স্টেশনকে জরিমানা বা বন্ধ করার বিধান।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা চাই প্রতিটি ব্যবহারকারী প্রয়োজনমতো তেল নিতে পারুক। সীমাহীন ক্রয় ও চুরি-কালোবাজার রোধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং বাজারে অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাবে।”
ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের মতে, নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন করলে প্রতিদিনের লেনদেন আরও মনিটর করা সহজ হবে। তারা বলেন, “আগের মতো কেউ অতিরিক্ত তেল কিনতে পারবে না, এতে সাধারণ মানুষকে নির্ধারিত পরিমাণে তেল পৌঁছানো সহজ হবে।”
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকরা নতুন নিয়মের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “দৈনন্দিন যাতায়াতে ২ লিটারের সীমা কিছুটা অসুবিধার কারণ হবে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘ পথে বা ব্যবসার কাজে বেশি তেল ব্যবহার করেন।” তবে অন্য একজন বলেন, “নিয়মটা ঠিক আছে, কারণ এতে তেলের ঘাটতি ও কালোবাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ মূলত তেল ঘাটতি ও কালোবাজার প্রতিরোধে কার্যকর। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজার ও গ্রাহকের স্বাভাবিক সুবিধার জন্য নিয়মাবলীর ফলাফল পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় জরুরি।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করা হবে। পাশাপাশি, প্রয়োজন হলে নিয়মাবলীতে সাময়িক পরিবর্তন আনা যেতে পারে। তেলের সরবরাহ সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত করতে ফিলিং স্টেশনগুলোকে অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর থেকে ফিলিং স্টেশনে ক্রেতারা নিয়মিত লেনদেনের রেকর্ডে স্বাক্ষর বা আইডি দেখাতে বাধ্য হবেন। সরকারের এ পদক্ষেপে আশা করা হচ্ছে, দেশের জ্বালানি বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরবে এবং প্রতিদিনের যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের সুবিধা নিশ্চিত হবে।