জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর: যশোরের বাঘারপাড়া পৌর সদরে বিএনপির দুই পক্ষের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর ছিল বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভূপালী সরকার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পৌরসভার স্বর্ণপট্টি মোড় থেকে চৌরাস্তা এবং তৎসংলগ্ন এলাকা, পাশাপাশি উপজেলা মোড় ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সকল প্রকার সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত ও মাইক ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে এ আদেশ জারি করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একই স্থানে ও কাছাকাছি সময়ে বিএনপির দুটি পক্ষ পৃথকভাবে সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কর্মসূচি ঘিরে বিভিন্ন বক্তব্য ও পাল্টা-বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ায় সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ইউএনও ভূপালী সরকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে প্রশাসন আরও সিদ্ধান্ত নেবে।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো পৌর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের সদস্যরাও টহলে অংশ নেন। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয় এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তল্লাশি চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে শুরুতে কিছুটা উদ্বেগ দেখা গেলেও দিনভর বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকে সতর্কতামূলক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্তব্য করেছেন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট বিভাজন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসন বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে নির্দিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রাখেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে নির্ধারিত সময় শেষে এ আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়।