যশোরে চলন্ত বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন অর্ধশত যাত্রী
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনার আতঙ্ক এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে যশোর-নড়াইল মহাসড়কে ঘটলো আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা। যশোর থেকে ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাসে চলন্ত অবস্থায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত যাত্রীদের নামিয়ে নেওয়ার ফলে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন প্রায় অর্ধশত যাত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ফতেপুর এলাকায়। বাসটি স্বাভাবিক গতিতে চলছিল। হঠাৎ করেই ইঞ্জিনের দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া ভয়াবহ আগুনে রূপ নেয় এবং দ্রুত পুরো বাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা হঠাৎ আগুন দেখে চরম আতঙ্কে পড়ে যান। কেউ কেউ চিৎকার শুরু করেন, আবার কেউ দ্রুত দরজার দিকে ছুটে যান। এ সময় চালক ও হেলপার পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বাসটি থামানোর চেষ্টা করেন। বাস থামানোর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে থাকেন। আশপাশের স্থানীয় মানুষ ও পথচারীরাও এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, “আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো বাসটি আগুনে ঢেকে যায়। যদি যাত্রীরা একটু দেরি করতেন, তাহলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারতো।”
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যশোর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। দমকলকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন এবং প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এসময় পুলিশ সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেন।
অগ্নিকাণ্ডে বাসটির প্রায় পুরো অংশই পুড়ে যায়। সিট, জানালা, ইঞ্জিনসহ ভেতরের অধিকাংশ সরঞ্জাম ভস্মীভূত হয়ে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। কয়েকজন যাত্রী হালকা আতঙ্ক ও ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লেও গুরুতর আহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটির ইঞ্জিনে অতিরিক্ত চাপ এবং দীর্ঘসময় বিরতিহীন চলাচলের কারণে ‘ওভারহিটিং’ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও দ্রুত ট্রিপ সম্পন্ন করার চাপ অনেক পরিবহনেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাসটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এ ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য যশোর-নড়াইল মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে—যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন খাতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ কতটা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।