মো: আজিজুর বিশ্বাস,
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লোহাগড়ায় কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীরা কর্মবিরতি ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের নীচে ব্যানার টানিয়ে এ কর্মবিরতি পালন করেন। এসময় লোহাগড়া উপজেলায় কর্মরত সকল স্বাস্থ্য সহকারী কর্মবিরতিতে অংশ নেন।
লোহাগড়া স্বাস্থ্য সহকারীরা বেতন কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগে কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে করে উপজেলার শত শত মা, শিশু টিকাদানসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, স্বাস্থ্য সহকারীরা বর্তমানে ১৬তম গ্রেডে বেতন পেলেও তা পরিবর্তন করে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে কর্মবিরতিতে নেমেছেন। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি ও আন্দোলন চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সহকারী আমিনুর রহমান, মো. রাসেল মোল্লা ও শেখ নাজিমউদ্দিনসহ একাধিক স্বাস্থ্য সহকারী বলেন,
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। বর্তমানে আমরা ১৬ গ্রেডে বেতন পাচ্ছি। আমাদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে এবং স্পষ্ট নীতিমালা দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।”
এদিকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা শিশু, অভিভাবক ও সমাজের সুধীজনরা এ কর্মবিরতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা বলেন,
“বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কোনো ধরনের আন্দোলন বা কর্মবিরতি করা যায় না। বিশেষ করে এটি মানবসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়। এই সময়ে এ ধরনের কর্মবিরতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।কারন তারা মানবজীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে নড়াইল জেলা সিভিল সার্জন আব্দুর রশিদ বলেন,
“যেহেতু জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, এই মুহূর্তে কোনো ধরনের কর্মবিরতি বা আন্দোলন সমীচীন নয়। বিষয়টি আমি দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কর্মবিরতির ফলে শিশু টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।