1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
  2. w2s_44b0d04ada8c@wp2shell.local : w2s_44b0d04ada8c :
  3. w2s_698aacfda15b@wp2shell.local : w2s_698aacfda15b :
  4. wpsvc_4c2136f12e8f@wordpress-svc.internal : wpsvc_4c2136f12e8f :
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও অস্বাভাবিক বিল: বিপাকে পল্লী বিদ্যুতের সাধারণ গ্রাহক - Gangchil TV
August 3, 2026, 10:10 pm

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও অস্বাভাবিক বিল: বিপাকে পল্লী বিদ্যুতের সাধারণ গ্রাহক

Reporter name :
  • আপডেটের সময়: Monday, August 3, 2026
  • 27 সময় দেখুন

মোঃ রানা আহমেদ :

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধির পর দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন প্রত্যন্ত অঞ্চল ও শহরতলীর গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগের তুলনায় সমপরিমাণ ইউনিট ব্যবহার করেও বর্তমান বর্ধিত মূল্যের কারণে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিটার রিডিংয়ের অসঙ্গতির ফলে বিলের পরিমাণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ট্যারিফ বৃদ্ধি ও বিলের তুলনামূলক চিত্রবিইআরসি-এর নতুন আদেশ অনুযায়ী খুচরা বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে গড়ে ১.৫২ টাকা বাড়িয়ে ১০.৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জুন মাসের বিল থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতিটি ধাপের বা স্ল্যাবের ইউনিটের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো গ্রাহক যদি মাসে ১৯০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তবে আগের ট্যারিফ কাঠামোর তুলনায় নতুন কাঠামোতে তাকে অনেক বেশি অর্থ গুণতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রথম ৭৫ ইউনিটের জন্য কম রেট এবং পরবর্তী ১১৫ ইউনিটের জন্য উচ্চতর রেট (স্ল্যাব-২) নির্ধারিত থাকায় মূল বিদ্যুতের দামই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে প্রায় ১,৪৪০ টাকার কাছাকাছি। এর সাথে ২৫ থেকে ৪৫ টাকা ডিমান্ড চার্জ, ৪০ টাকা মিটার ভাড়া এবং ৫% সরকারি ভ্যাট যুক্ত হয়ে মোট বিল ১,৬৫০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ আগের ট্যারিফ রেটে সমপরিমাণ ইউনিটের বিল এর চেয়ে অনেক কম আসত। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ কর্মজীবী মানুষের পারিবারিক বাজেটে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।গ্রাহকদের প্রধান অভিযোগসমূহমাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু সরকারিভাবে ইউনিট প্রতি দাম বাড়ানোই বিল বৃদ্ধির একমাত্র কারণ নয়। গ্রাহকদের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি বড় অভিযোগ উঠে আসছে:১. অনুমানের ওপর ভিত্তি করে বিল তৈরি: দেশের অনেক এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডাররা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটারের রিডিং সংগ্রহ করেন না। অফিসে বসেই পূর্ববর্তী মাসের গড় হিসাব বা সম্পূর্ণ কাল্পনিকভাবে অতিরিক্ত ইউনিট লিখে বিল পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, কাগজে-কলমে তার চেয়ে অনেক বেশি ইউনিট দেখানো হচ্ছে।২. মিটারে দ্রুত ইউনিট পরিবর্তন বা জাম্পিং: ডিজিটাল এবং প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, আগের এনালগ মিটারের তুলনায় বর্তমান মিটারগুলোতে ইউনিট অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তন হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘরের সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার পরেও মিটারের রিডিং সচল থাকার মতো যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানা যাচ্ছে।৩. উচ্চ স্ল্যাবের ফাঁদ: বিদ্যুতের ব্যবহার সামান্য বৃদ্ধি পেলেই গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চ মূল্যের স্ল্যাবে বা ধাপে প্রবেশ করেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো পরিবারের স্বাভাবিক ব্যবহার ১৫০ ইউনিট হলে তারা যে হারে বিল দেন, গরমের কারণে বা অন্য কোনো কারণে তা সামান্য বেড়ে ২০০ ইউনিট পার হলেই প্রতি ইউনিটের মূল্য অনেক বেড়ে যায়। ফলে বিলের পরিমাণ আনুপাতিক হারের চেয়েও বহুগুণ বেশি মনে হয়।জনজীবনে এর প্রভাব ও স্থানীয় অফিসের ভূমিকাবিদ্যুতের এই বাড়তি খরচ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রান্তিক অঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ কৃষকদের সেচ কাজের খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি গৃহস্থালি বিল মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়গুলোতে যোগাযোগ করা হলে গ্রাহকদের যথাযথ সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিটারের ত্রুটি খতিয়ে না দেখেই গ্রাহকদের আগের বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করছেন এবং অন্যথায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।বিশেষজ্ঞদের মত ও করণীয়জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি কমাতে দাম বাড়ানো হলেও সাধারণ গ্রাহকদের ওপর যেন অতিরিক্ত অন্যায্য বিলের বোঝা না চাপে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা প্রয়োজন ছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে শতভাগ সঠিক মিটার রিডিং নিশ্চিত করতে হবে এবং অনুমানের ভিত্তিতে বিল তৈরির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি, কোনো মিটারে যান্ত্রিক ত্রুটি বা দ্রুত ইউনিট বাড়ার অভিযোগ এলে তা বিনামূল্যে দ্রুত পরীক্ষা ও দ্রুততম সময়ে সমাধানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যুৎ বিলের এই আকস্মিক ও অসঙ্গতিপূর্ণ ঊর্ধ্বগতি রোধ করা না গেলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ আরও তীব্র রূপ নিতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর