1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
  2. w2s_44b0d04ada8c@wp2shell.local : w2s_44b0d04ada8c :
  3. w2s_698aacfda15b@wp2shell.local : w2s_698aacfda15b :
  4. wpsvc_4c2136f12e8f@wordpress-svc.internal : wpsvc_4c2136f12e8f :
রণজিৎ বাওয়ালীর স্মরণে অভয়নগরে শোকসভা - Gangchil TV
August 17, 2026, 11:07 pm

রণজিৎ বাওয়ালীর স্মরণে অভয়নগরে শোকসভা

Reporter name :
  • আপডেটের সময়: Sunday, August 16, 2026
  • 25 সময় দেখুন

 

 

প্রিয়ব্রত ধর, অভয়নগর (যশোর):

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক, বিশিষ্ট কৃষক নেতা, লোকশিল্পী, গীতিকার ও আজীবন সংগ্রামী রণজিৎ বাওয়ালীর স্মরণে যশোরের অভয়নগরে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় উপজেলার মশিয়াহাটি মন্দির প্রাঙ্গণে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে রণজিৎ বাওয়ালীর স্মরণে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে তাঁর লেখা ‘জাগো কৃষক, জাগো শ্রমিক…’ গান পরিবেশনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

 

সভায় ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এলাকার গুণীজন ও আন্দোলনসঙ্গীরা উপস্থিত হয়ে রণজিৎ বাওয়ালীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সভায় ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ রণজিৎ বাওয়ালীর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে রণজিৎ বাওয়ালীর আদর্শ বাস্তবায়নে সংগ্রাম কমিটি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম বাস্তবায়ন ও আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

 

তিনি আগামী ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং এক মাসের মধ্যে ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠকের ঘোষণা দেন।

 

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা তসলিম উর রহমান, চৈতন্য কুমার পাল, অধ্যাপক অনিল বিশ্বাস, শেখর বিশ্বাস, সাধন বিশ্বাস, মাসুদ হাসান, সাবেক সুন্দলী ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ মল্লিক, মুক্তেশ্বরী আন্দোলনের আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাস, ২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক বাবর আলী গোলদার, হরি-গ্যাংরাইল সংগ্রাম কমিটির নেতা মাহামুদুল হাসান, শিবপদ বিশ্বাস, তীষা চামেলী, চ্যকবসন্তী মণ্ডল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, রাজু আহমেদ, মহির উদ্দীন, সুকৃতি মণ্ডল, ডা. সুকৃতি বিশ্বাস, আদিত্য কুমার সরকার, সুখেন্দু বিশ্বাস ও কনোজ বিশ্বাস।

 

রণজিৎ বাওয়ালীর পৌত্র বিপ্রজিত বাওয়ালী তাঁর দাদুর আদর্শ ও সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

দীর্ঘ সংগ্রামী জীবন

 

রণজিৎ বাওয়ালী ১৯৪৩ সালের ২ মার্চ অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আশুতোষ বাওয়ালী ও মা রঙ্গোবালা বাওয়ালী। প্রায় চার দশক ধরে তিনি ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানিবন্দী মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে আসছিলেন।

 

‘পানি সরাও, মানুষ বাঁচাও’, ‘অবিলম্বে টিআরএম বাস্তবায়ন কর’, ‘এলাকার সকল নদী ও খাল পুনরুদ্ধার ও অবমুক্ত কর’ এবং ‘আমডাঙ্গা খাল সংস্কার কর’—এ ধরনের দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন রাজপথে সোচ্চার ছিলেন। ভবদহের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে জোয়ার-ভাটাভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনা বা টিআরএম বাস্তবায়নের দাবিতে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন, গণসমাবেশ ও সংলাপে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

নদী-খাল নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে নদী-খাল গবেষক হিসেবেও পরিচিতি পান। আন্দোলন-সংগ্রামের এক পর্যায়ে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও আন্দোলন থেকে সরে যাননি। তাঁর বহুল উচ্চারিত কথা ছিল, “চোখ নেই তো কী হয়েছে, মুখ তো আছে।”

 

তিনি ছিলেন লোকশিল্পী, গীতিকার ও স্বভাবকবি। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট, অধিকার ও বঞ্চনার কথা গান ও কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরতেন। তাঁর লেখা গানের বই ‘চেতনা ও রাজপথ’। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে লেখক লিঠু মণ্ডল ‘কৃষ্টির ভূমিপুত্র রণজিৎ বাওয়ালী : জীবন ও গান’ শিরোনামে একটি জীবনীগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। তিনি সমগীত সম্মাননা-২০২৩ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি, যশোরসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন।

গত ১ জুলাই নিজ বাড়িতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ১৫ জুলাই থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে নিজ বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে ৫ আগস্ট বুধবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে ডুমুরতলায় নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে মারা যান।

 

ব্যক্তিজীবনেও নানা বেদনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এই সংগ্রামী মানুষকে। স্ত্রী কালিদাসী বাওয়ালী চলতি বছরের ৬ মে মারা যান। তাঁদের দুই সন্তান—ছেলে বৈদ্যনাথ বাওয়ালী ও মেয়ে শেফালী বাওয়ালী। ছেলে বৈদ্যনাথও ২৮ বছর বয়সে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান। এরপর নাতিকে আগলে রেখেই নিজের সংগ্রামী জীবন চালিয়ে যান রণজিৎ বাওয়ালী।

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসন, নদী-খাল রক্ষা এবং পানিবন্দী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা স্মরণ করে বক্তারা বলেন, রণজিৎ বাওয়ালীর মৃত্যুতে একটি সংগ্রামী অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। তাঁর আদর্শ ও অসমাপ্ত আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়েই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর