নিজস্ব প্রতিবেদ
রাজশাহীর দাওকান্দি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও নারী শিক্ষককে মারধর ও কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়
রাজশাহীর দাওকান্দি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও নারী শিক্ষককে মারধর ও কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষ ও নারী শিক্ষকের ওপর হামলার পর আজ রোববার কলেজ খুললেও তাঁরা কলেজে যেতে পারেননি। তাঁরা এখনো চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে। কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম হয়েছে বলে শিক্ষকেরা জানিয়েছেন।
এদিকে নারী শিক্ষক আলিয়া খাতুনকে জুতাপেটা করা মৎস্যচাষি ও বিএনপি কর্মী শাহাদাত আলীকে খুঁজছে পুলিশ। তাঁর নামে আদালতের একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। গত বৃহস্পতিবার এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়েই তিনি কলেজে ঢুকে ওই শিক্ষককে পা থেকে জুতা খুলে পিটিয়েছেন।
আজ সকালে কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক কলেজে আসেননি। হামলার শিকার প্রদর্শক আলিয়া খাতুনও কলেজে আসেননি। বেলা দুইটা থেকে কলেজের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আছে। কলেজে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও কম।
রাজশাহীতে কলেজে ঢুকে নারী শিক্ষককে মারধর করা বিএনপির কর্মীর নামে আছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
কথা বলার জন্য কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করা যায়নি। ঘটনার দিন তাঁর মুঠোফোন ভেঙে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঘটনার দিনই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
তবে বিকল্প একটি মাধ্যমে প্রদর্শক আলিয়া খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে তিনি একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। কলেজে যাওয়ার মতো শারীরিক অবস্থার এখনো উন্নতি হয়নি। এ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুস্থ হওয়ার পরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তাঁরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেই আছেন।
জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। পুলিশ তাঁকে খুঁজছে। তাঁকে পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে। আর দাওকান্দি সরকারি কলেজের আহত অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলিয়া খাতুন এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।