আল মামুন গাজী, পায়রা ইউনিয়ন সংবাদদাতা।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার ৪ নং পায়রা ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরিব ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাত্তার গাজীর বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও, তিনি পাল্টা দাবি করেছেন—স্থানীয় প্রভাবশালীরা তার হাত থেকে চালের কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের মধ্যে বণ্টন করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাত্তার গাজীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই গরিবদের হক আত্মসাৎ এবং সরকারি সুবিধা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন এবং বিষয়টি ভাইরাল হয়। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ–এর ছত্রছায়ায় থেকে কার্ড করে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
সাম্প্রতিক অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি সদস্য মো. সাত্তার গাজী এক ভিন্ন ও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দকৃত চালের কার্ডের একটিও তিনি নিজে বিতরণ করতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩ নং ওয়ার্ডের কিছু স্থানীয় নেতাকর্মী জোরপূর্বক তার কাছ থেকে সব কার্ড ছিনিয়ে নেয়।
তিনি বলেন,
“আমাকে পুতুলের মতো বসিয়ে রেখে তারা নিজেদের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কার্ডগুলো তাদের অনুসারীদের মধ্যে বিলি করেছে।”
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে স্থানীয় সাংবাদিক আল মামুন গাজী ইউপি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তীতে মো. সাত্তার গাজীর একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ফোনালাপে তিনি কার্ড ছিনতাই এবং স্থানীয় রাজনৈতিক চাপের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন বলে দাবি করা হচ্ছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
প্রকৃত কার্ডধারী দরিদ্র ও দুস্থরা অভিযোগ করছেন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের পারস্পরিক দোষারোপের মাঝে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে সরকারি চাল বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক।