মোঃ নুরুল করিম। জেলা প্রতিনিধি | শরীয়তপুর |
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মাটির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার এক রহস্যজনক ঘটনায় এলাকাজুড়ে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে মাটি খুঁড়লে ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। টানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চললেও তাপের সুনির্দিষ্ট উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণের একটি নির্দিষ্ট অংশে মাটি অস্বাভাবিকভাবে গরম অনুভূত হতে থাকে। মাটি স্পর্শ করলেই তাপ টের পাওয়ায় বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমায়। স্থানীয়দের দাবি, গর্ত করে পরীক্ষা করলে নিচ থেকেও তাপ ও ধোঁয়া বের হয়। তবে প্রভাবিত এলাকার পরিধি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য থাকায় বিশেষজ্ঞ পরিমাপ ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শনিবার (৬ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স–এর একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে মাটিতে গর্ত করে পানি ঢেলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও বারবার পানি দেওয়ার পরও তাপ কমেনি। গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা এবিএম আবুল বাশার জানান, নির্দিষ্ট অংশে অস্বাভাবিক তাপ অনুভূত হয়েছে, তবে কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না; বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন জানান, পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যুৎ লিকেজ বা ত্রুটির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে এবং রোগী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্বে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওসাদ হাসান জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে; প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ অনুসন্ধান করা হবে।
স্থানীয়দের ধারণা, ভূগর্ভস্থ গ্যাস, রাসায়নিক বিক্রিয়া কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণে এই তাপ সৃষ্টি হতে পারে। বিদ্যুৎ লিকেজ নাকচ হওয়া এবং পানি দিয়েও তাপ না কমায় ঘটনাটি আরও জটিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভূতত্ত্ববিদ বা পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এখনও সরাসরি পরিদর্শনে আসেননি। এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলের আশপাশে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।