ডেস্ক রিপোর্ট
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিডিওটিতে তাঁর এক হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাচ্ছে—এমন দাবি করে অনেকে এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি, তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়েও নানা গুজব ছড়িয়েছে।
গত শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরই তা কয়েক মিলিয়ন বার দেখা হয়।
এরপর থেকেই কিছু ব্যবহারকারী দাবি করেন, ভিডিওতে নেতানিয়াহুর ডান হাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আঙুল দেখা যাচ্ছে, যা ‘ক্ল্যাসিক এআই গ্লিচ’ হতে পারে। কেউ কেউ আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেন, নেতানিয়াহু হয়তো আর জীবিত নেই এবং পুরোনো বা কৃত্রিম ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।
মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার Candace Owens সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলে বলেন, “বিবি কোথায়? কেন তাঁর দপ্তর এআই ভিডিও প্রকাশ করছে?”
তবে এসব দাবি নাকচ করেছে এক্সের নিজস্ব এআই চ্যাটবট Grok। গ্রোকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর হাতে স্বাভাবিকভাবেই পাঁচটি আঙুল রয়েছে। ভিডিওতে আলো, ক্যামেরার কোণ ও হাতের ভঙ্গির কারণে একটি দৃষ্টিভ্রম (optical illusion) তৈরি হয়েছে, যা ছয় আঙুলের মতো মনে হতে পারে।
গ্রোক আরও জানায়, নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুজব বা ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি—এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম কিংবা ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এদিকে, বিতর্কের মধ্যে আরেকটি ঘটনায় আলোচনার জন্ম দেয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান। লাইভ সম্প্রচারের সময় মার্কিন অর্থমন্ত্রী Scott Bessent–কে হঠাৎ সাক্ষাৎকার ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। তাঁকে জানানো হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump তাঁকে হোয়াইট হাউসের White House Situation Room–এ তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হতে বলেছেন। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে নেতানিয়াহুর ভিডিও বিতর্কের কোনো সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ছেলে Yair Netanyahu সাধারণত সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও ৯ মার্চের পর থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে নতুন কোনো পোস্ট দেখা যায়নি। তবে এটিকেও গুজবের পক্ষে শক্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ছড়ানোর প্রবণতার কারণেই এ ধরনের বিভ্রান্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।