“দাদারা ইরানে। দু’দিন হলো যোগাযোগ করতে পারছি না। সঙ্গে তিনটে বাচ্চা রয়েছে…জানি না কী অবস্থায় আছে,” কথাগুলো বলতে বলতে গলা ধরে আসছিল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার বাসিন্দা সাবির গাজীর।
তার বড়ভাই আমির হোসেন গাজী, ভাবী ঊষা পারভীন এবং তিন সন্তানসহ পরিবারের পাঁচজন সদস্য এখন তেহরানে রয়েছেন। ইরানের উপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা শুরু করার পর থেকে তাদের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বাড়ির লোকেরা।
বসিরহাটের বাসিন্দা আমির হোসেন গাজী ইরানে পড়াশোনার জন্য গিয়েছিলেন। গত আট বছর ধরে স্ত্রী ও সন্তানসহ সেখানেই বাস করেন তারা।
“বাড়ির কেউই চোখের পাতা এক করতে পারিনি। মা ভেঙ্গে পড়েছেন,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তার ভাই সাবির গাজী। বড়ভাইয়ের সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়েছিল গত সপ্তাহে। তারপর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে মা ইয়ারবানু বিবির। ছেলে, ছেলের বউ ও নাতি, নাতনির কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন তিনি। বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “ওরা কী অবস্থায় আছে জানি না। কিছুতেই ফোনে পাচ্ছি না। কী করব?”
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর হামলার এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলাকে কেন্দ্র করে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেখানে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর পাল্টা আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তারা।
এই অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইসরায়েল, ইরানসহ সংঘাতের আবহে থাকা এসব দেশে অনেকেই আটকে পড়েছেন। ভারতের অনেক নাগরিকও এই তালিকায় আছেন। ইরান, ইসরায়েলসহ এই দেশগুলোতে ভারতীয়দের জন্য আগেই অ্যাডভাইজরি জারি করেছে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় দূতাবাসগুলো।