নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ | ২২ জুন ২০২৬
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর মারিহা মাহি (১৪) নামের অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সোমবার (২২ জুন) দিনভর অভিযুক্তের বাড়িঘরে দফায় দফায় ভাঙচুর চালিয়েছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
নিহত মারিহা মাহি উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় দশম শ্রেণির ছাত্র রাজিব (ছদ্মনাম) ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মাহির বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়লে ১৩ জুন তা শিক্ষকদের নজরে আসে এবং এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে ১৫ জুন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের তলব করে স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয় এবং উভয় শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক স্থানান্তর সনদ (টিসি) দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন থেকেই মাহি নিখোঁজ ছিল। পরদিন মাহির পরিবার প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানালেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এরপর থেকেই পুলিশ তাকে উদ্ধারে অভিযানে নামে।
।
মরদেহ উদ্ধার ও উত্তেজনা দীর্ঘ ছয় দিন পর রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার চন্দননগর এলাকার একটি কাঠবাগান ও কবরস্থানের পাশের নির্জন ঝোপঝাড় থেকে মাহির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকালে মরদেহের একটি অংশ গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল এবং বাকি অংশ মাটিতে পড়ে ছিল। মরদেহের পাশে তার স্কুল ড্রেস ও ব্যাগও পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, এই লোমহর্ষক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার সকাল থেকে উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত রাজিব ও তার স্বজনদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
তদন্ত ও আটক এ ঘটনায় নিহত ছাত্রীর মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটককৃতরা হলেন— রাজিব (ছদ্মনাম), তার বোন আয়েশা আক্তার (২১) ও রুমা আক্তার (৩৫), মাসুদ হোসেন (৩৫), রাসেল হোসেন (২৫), বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম (৬০) এবং আইসিটি শিক্ষক ইয়াকুব মোল্লা (৩৫)।
সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, “নিহতের মরদেহের অবস্থা দেখে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আটককৃতদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”