1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
  2. w2s_44b0d04ada8c@wp2shell.local : w2s_44b0d04ada8c :
  3. w2s_698aacfda15b@wp2shell.local : w2s_698aacfda15b :
  4. wpsvc_4c2136f12e8f@wordpress-svc.internal : wpsvc_4c2136f12e8f :
সড়কে মৃত্যুর লাইসেন্স কার হাতে? - Gangchil TV
July 31, 2026, 9:52 pm

সড়কে মৃত্যুর লাইসেন্স কার হাতে?

Reporter name :
  • আপডেটের সময়: Friday, July 31, 2026
  • 32 সময় দেখুন

সড়কে মৃত্যুর লাইসেন্স কার হাতে?

অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান চান জেমস আব্দুর রহিম রানা

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশের সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটছে অসংখ্য দুর্ঘটনা। কোথাও প্রাণ হারাচ্ছেন পথচারী, কোথাও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কোথাও চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে দুর্ঘটনার শিকার মানুষকে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার নানা উদ্যোগ ও আইন প্রয়োগের পরও দুর্ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে না। এ প্রেক্ষাপটে ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালক, অপ্রাপ্তবয়স্ক মোটরসাইকেল আরোহী এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সাহিত্য গবেষক জেমস আব্দুর রহিম রানা।

 

সম্প্রতি এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসাধীন থাকা জেমস আব্দুর রহিম রানা এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের সড়কগুলোতে এখনো এমন অসংখ্য চালক রয়েছেন যারা বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই যানবাহন পরিচালনা করছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা এবং অনুমোদনহীন বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের অবাধ চলাচল। এসব কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং ঝরছে মূল্যবান প্রাণ।

 

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি এখন সামাজিক ও জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর একজন আহত ব্যক্তিকে শুধু শারীরিক কষ্টই সহ্য করতে হয় না, বরং তাকে দীর্ঘ চিকিৎসা, আর্থিক সংকট এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়েও যেতে হয়। একইভাবে একটি দুর্ঘটনা পুরো পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়।

 

জেমস আব্দুর রহিম রানা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান ঘাটতি রয়েছে। অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর প্রকাশ্যে মোটরসাইকেল চালালেও কার্যকর নজরদারির অভাব দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে চালকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই যানবাহন চলাচল করছে। ফলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, সামাজিক মর্যাদা বা আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে অনেক পরিবার অল্পবয়সী সন্তানদের হাতে মোটরসাইকেলের চাবি তুলে দিচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ ছাড়া এসব কিশোর-কিশোরী নিজেদের জীবন যেমন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে, তেমনি অন্যের জীবনও বিপন্ন করছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সচেতন নাগরিকদের এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

বিবৃতিতে তিনি বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই চলবে না; আইন বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কঠোরতা থাকতে হবে। লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন জব্দ, অবৈধ যান চলাচল বন্ধ এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

 

তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সড়কে ডিজিটাল নজরদারি বৃদ্ধি, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু এবং চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

জেমস আব্দুর রহিম রানা বলেন, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক, চালক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিক সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

 

বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, “আমি নিজেই একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার। চিকিৎসার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে উপলব্ধি করেছি, একটি দুর্ঘটনা কতটা নির্মম হতে পারে। তাই আমি সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—লাইসেন্সবিহীন চালক, অপ্রাপ্তবয়স্ক মোটরসাইকেল আরোহী এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করা হোক। নিরাপদ সড়ক কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।”

 

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার দাবিতে তার এই আহ্বান ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন নাগরিকরাও মনে করছেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ নিশ্চিত করাই হতে পারে একটি নিরাপদ ও মানবিক সড়ক ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর