1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
সাতক্ষীরার তালায় “রাইজ অ্যান্ড বি হিলড” মেগা ক্রুসেডে অলৌকিক আরোগ্য, আত্মিক জাগরণে হাজারো মানুষের ঢল - Gangchil TV
May 24, 2026, 8:17 pm

সাতক্ষীরার তালায় “রাইজ অ্যান্ড বি হিলড” মেগা ক্রুসেডে অলৌকিক আরোগ্য, আত্মিক জাগরণে হাজারো মানুষের ঢল

Reporter name :
  • আপডেটের সময়: Sunday, May 24, 2026
  • 28 সময় দেখুন

 

 

 

জেমস আব্দুর রহিম রানা, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ “রাইজ অ্যান্ড বি হিলড” (উঠো এবং সুস্থ হও) মেগা ক্রুসেড। আত্মিক পুনর্জাগরণ, আরোগ্য, প্রার্থনা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার আহ্বানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে গোনালী এফসিসিবি চার্চ গ্রাউন্ড এক প্রাণবন্ত আত্মিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

রোববার (২৪ মে) বিকেলে তালা উপজেলার গোনালী এফসিসিবি চার্চ প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করে ক্রাইস্ট অ্যাম্বাসি অ্যাগ্লো চার্চ, বাংলাদেশ। “A Time of Worship, Miracles and the Word” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সমাবেশে দেশ-বিদেশের খ্রিস্টান ধর্মীয় বক্তা, গসপেল সংগীতশিল্পী ও চার্চ নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল প্রার্থনা, আরাধনা সংগীত, বাইবেলের বাণী প্রচার এবং অসুস্থদের জন্য বিশেষ আরোগ্য প্রার্থনার আবহ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রিয়া বন্যা বিশ্বাস। প্রারম্ভিক প্রার্থনা পরিচালনা করেন রঞ্জিত দাস। এরপর ক্রাইস্ট অ্যাম্বাসি অ্যাগ্লো চার্চ বাংলাদেশের কয়ার টিমের প্রাণবন্ত আরাধনা সংগীত পরিবেশনায় পুরো প্রাঙ্গণ ভক্তিময় পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে। বাইবেলের বাণী প্রচারকারীদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন সঞ্জয় সরকার।

স্থানীয় বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোনালী এফসিসিবি চার্চের পালক রেভারেন্ড রঘুনাথ সরকার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, হতাশা ও মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব থেকে উত্তরণের জন্য আত্মিক শক্তি, বিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধ অত্যন্ত জরুরি। তিনি সবাইকে শান্তি, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

ক্রাইস্ট অ্যাম্বাসি অ্যাগ্লো চার্চ বাংলাদেশের যুব বিভাগের প্রধান জন সাব্বির রানা বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন নয়, বরং সমাজে মানবতা, ভালোবাসা ও আশার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে নৈতিকতা ও সঠিক পথে পরিচালিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য।” তিনি আরও বলেন, আত্মিক জাগরণ সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির ভিত্তি শক্তিশালী করে।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে পাস্টর চিওমা উদেফুনা বাইবেলের বাণী প্রচার করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মানুষের জীবনে হতাশা, ভয় ও অনিশ্চয়তার সময়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসই শান্তি ও আশার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

সমাবেশের বিশেষ আকর্ষণ ছিল “অল্টার কল” পর্ব, যেখানে অসুস্থ ও শারীরিকভাবে কষ্টে থাকা মানুষের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এ সময় প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল রোগ থেকে সুস্থতা লাভ করেন বলে দাবি করেন এবং তারা মঞ্চে এসে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কেউ দীর্ঘদিনের শারীরিক ব্যথা থেকে মুক্তির কথা জানান, আবার কেউ মানসিক অস্থিরতা ও দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার অনুভূতি প্রকাশ করেন। এসব সাক্ষ্য উপস্থিত জনতার মাঝে গভীর আবেগ ও আত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে। অনেককে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় প্রার্থনায় অংশ নিতে দেখা যায়।

এ সময় বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রার্থনায় নেতৃত্ব দেন ক্রাইস্ট অ্যাম্বাসি অ্যাগ্লো চার্চ বাংলাদেশের প্রধান জন সাব্বির রানা। তিনি দেশের মানুষের সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিক উন্নতির জন্য প্রার্থনা করেন এবং সমাজে মানবতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক ভালোবাসা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে ভয়, হতাশা, অনিশ্চয়তা ও সামাজিক অবক্ষয় বেড়ে যাওয়ায় আত্মিক শক্তি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই লক্ষ্যেই এ বৃহৎ আয়োজন। তাদের মতে, এটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং মানুষের মানসিক প্রশান্তি, বিশ্বাস ও আত্মিক শক্তি ফিরে পাওয়ার একটি সামাজিক প্রয়াস।

অনুষ্ঠানে নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক টিম, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। দিনব্যাপী উপাসনা, গসপেল সংগীত, সমবেত প্রার্থনা ও বাইবেলের বাণী প্রচারের মধ্য দিয়ে পুরো পরিবেশ আত্মিক আবহে রূপ নেয়।

স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন পর তালায় এত বড় পরিসরে এ ধরনের আত্মিক ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন মানুষের মাঝে শান্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও নতুন আশার বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেষে সমাপনী প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর