স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় স্ত্রীকে দিয়ে কিস্তি তুলিয়ে স্বামীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এবিয়ষ গত ৩ এপ্রিল অভয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী। এছাড়াও পালাতক স্বামী মোঃ সাইফুলের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক বিয়ের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী ঐ নারীর নাম মাহমুদা বেগম শাহারুল(৪৫)।সে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের পুড়াখালী গ্রামের খালেক চৌধুরীর মেয়ে। একই এলাকার ছবর মোড়লের ছেলে মোঃ সাইফুলের (৩৩) সাথে গত এক বছর আগে বিয়ে হয় তাদের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ও মাহামুদার
বছরখানেক আগে বিয়ে হয়। মাসখানে সবকিছু ভালোভাবে থাকলেও ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক হইতে থাকে। ভুক্তভোগীর স্বামী মোঃ সাইফুল। এর পর থেকে প্রায়ই কারণে অকারণে টাকার জন্য শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করিতে থাকতো । এক পর্যায়ে সে ভুক্তভোগীকে দিয়ে মাসে বিশ হাজার টাকা সুধে নগদ ৩ লাখ ৫০ টাকা নেওয়ায়। সমিতি থেকে লোন হিসাবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং স্বর্নের কানের দুল বন্ধক রেখে ২০,০০০ হাজার টাকা নেয় সাইফুল ভুক্তভোগীর নারীর কাছ থেকে। পরে সময়মতো লভ্যাংশের টাকা ও লোনের টাকা না দিয়ে তালবাহানা করে। সুধের টাকার লভ্যাংশ ও লোনের টাকা পরিশোধ করার জন্য বল্লে সাইফুল গত২৮ মার্চ অনুমান রাত ৯ টার সময় ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য গালাগালি ও এলোপাতাড়ী কিল, ঘুষি, লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে ও হত্যার উদ্দেশ্যে গলাটিপে ধরিয়া শ্বাসরোধের
চেষ্টা করে। পরে চিৎকার করিলে আশেপাশের লোকজন চলে আসলে সে পালিয়ে যায়। এর পর থেকে সাইফুলের সাথে মোবাইলের যোগাযোগ করিলে সে ঐ নারীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলে কোন টাকা পরিশোধ করিতে পারিবে না সে।
এবিষয় ভুক্তভোগী মাহমুদা বেগম শাহারুল জানান,
সাইফুল পূর্ব-পরিকল্পিত ভাবে আমাকে বিবাহ করে। সরল বিশ্বাসের সুবাদে সে আমার নিকট থেকে মোট পাঁচ লক্ষ দশ হাজার টাকা সুধে ও লোন করায়। এই টাকা আত্মসাৎ করে সে আরেক যায়গায় বিয়ে করার পায়তারা করিতেছে। সাইফুল এর আগে আরো ৬টি বিয়ে করেছে। তার আগের বউকে দিয়ে সে এমন লোন করিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি এখন অনেক বিপদে আছি, কি করে এতো টাকার দেনা শোধ করব। এ বিষয় নিয়ে হতাশায় ভুগিছি। আমি সাইফুলের উপযুক্ত বিচার চাই।
এবিষয় উপরিদর্শক আশরাফুল আলম জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি হঠাৎ ছুটিতে আসার কারণে বিষয়টি তদন্ত করা হয়নি। আমি এসে যথার্থ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।