মোল্লা ইকবাল হুসাইন
দিঘলিয়া(খুলনা)প্রতিনিধি
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামে নিখোঁজের তিন দিন পর কালু (৩৫) নামে এক ট্রলারচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা প্রায় ১টার দিকে আতাই নদীর লস্করপুর ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শাহআলম মোল্লা কালু দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ৮ নম্বর ওয়ার্ড রেজার মোড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় ট্রলারচালক ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। তার বড় মেয়ে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোট ছেলে প্রায় ১০–১২ মাস বয়সী শিশু।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ট্রলার মেরামতের কাজের কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। তিনি স্ত্রীকে জানান, ট্রলারটি নদীর ঘাটে তুলে মেরামত করবেন এবং সেজন্য রাতে আর বাড়ি ফিরবেন না। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরদিন বুধবার সকাল ৭টার দিকে ট্রলারের মালিক আব্দুল কাদের জনি কালুর স্ত্রীকে ফোন করে জানান, কালু ট্রলারে আসেননি। এ সময় কালুর স্ত্রী জানান, আগের রাতে তিনি ট্রলারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন এবং আর ফিরে আসেননি। এরপর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।
নিখোঁজের ঘটনায় কালুর স্ত্রী প্রথমে সেনহাটি পুলিশ ফাঁড়িতে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দিঘলিয়া থানায় গিয়ে বিস্তারিত অবহিত করেন এবং থানার পরামর্শে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কালুর স্ত্রী দিঘলিয়া থানায় গেলে কিছুক্ষণ পর থানায় খবর আসে যে আতাই নদীর লস্করপুর ঘাট এলাকায় একটি মরদেহ ভেসে উঠেছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি কালুর বলে শনাক্ত করেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ বিষয়ে দিঘলিয়া থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।