ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের দোসতিনা গ্রামে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঝিকরগাছা উপজেলা সভাপতি ইসা মাহমুদের ওপর নিজ গ্রামে হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ফেব্রুয়ারী) বেলা ১১টার দিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুম্মার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর একদল বিএনপি কর্মী অতর্কিতভাবে ইসা মাহমুদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ইসা মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, “জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কামাল, আশানুর ও হারুন আমার গলা চেপে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে এলাকাবাসী ও মুসল্লিরা আমাকে উদ্ধার করেন। নির্বাচনের আগের দিনও তারা আমাকে নির্বাচনী মাঠে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছিল। নির্বাচনের পর কোনো ধরনের ঝামেলা হলে তারা দায় নেবে না বলেও সতর্ক করে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা হামলা-মামলার পথে যেতে চাই না। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান চাই। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতের দায়িত্বশীলরা আলোচনা করে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে স্থানীয় যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিরোধ মেটাতে বসে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ইসা মাহমুদের দাবি, তার ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপজেলা নেতাদের কথা মানছেন না।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, “আমরা শান্তি চাই। নির্বাচনে একদল দায়িত্ব পায়, আরেকদল পায় না তবে সবারই ভোটার রয়েছে। সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিএনপির উপজেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আগেও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছিলেন যে আর সমস্যা হবে না। তবুও কেন এমন ঘটনা ঘটছে, তা তাদেরই খতিয়ে দেখা উচিত।”
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েছি। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন শিমুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার নুরুজ্জামান, সেক্রেটারি আইয়ুব হোসেনসহ স্থানীয় ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।