1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
বিক্রির অভিযোগ, ‘অভাবের তাড়নায় দিয়ে দেওয়া’ দাবিকে ঘিরে প্রশ্ন - Gangchil TV
May 7, 2026, 2:37 pm

বিক্রির অভিযোগ, ‘অভাবের তাড়নায় দিয়ে দেওয়া’ দাবিকে ঘিরে প্রশ্ন

Reporter name :
  • আপডেটের সময়: Saturday, January 31, 2026
  • 336 সময় দেখুন

বিক্রির অভিযোগ, ‘অভাবের তাড়নায় দিয়ে দেওয়া’ দাবিকে ঘিরে প্রশ্ন

নওয়াপাড়ার রিজিয়া মেমোরিয়াল (প্রাঃ) বেসরকারি হাসপাতালে মোটা অংকের টাকায় নবজাতক বিক্রি

 

 

নওয়াপাড়ার রিজিয়া মেমোরিয়াল (প্রাঃ) বেসরকারি হাসপাতালে মোটা অংকের টাকায় নবজাতক বিক্রি

যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় অবস্থিত রিজিয়া (প্রাঃ) মেমোরিয়াল হাসপাতালে সদ্য জন্ম নেওয়া এক নবজাতক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শিশুবিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীর যোগসাজশে শিশুটিকে গোপনে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটিকে মায়ের সম্মতিতে অন্যত্র দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।

 

জন্মের পরপরই শিশুর সন্ধান নেই

 

হাসপাতাল সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের কেফায়েত নগর মাঠপাড়া গ্রামের আবুল শেখ মিস্ত্রির মেয়ে ও মো. টুটুলের স্ত্রী মারুফা খাতুন (৩৬) সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য রিজিয়া (প্রাঃ) হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্ট্রারে তাঁর সিরিয়াল নম্বর ছিল ১৯৯২।

 

ওই দিন সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। স্বজনদের অভিযোগ, জন্মের কিছু সময় পর নবজাতককে আর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। পরে শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

 

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের কয়েকজন নার্স ও কর্মচারীর সহায়তায় রহিমা বেগম ও রতনা নামের দুই নারী নবজাতককে হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে যান। পরে একটি প্রাইভেটকারে করে শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেখানে একটি চক্রের কাছে শিশুটিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত প্রমাণ বা আইনগত নথি প্রকাশ্যে আসেনি।

 

অভাবের তাড়নায় দেওয়া হয়েছে, হাসপাতালের দাবি

 

শিশু নিখোঁজের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মা নিজেই শিশুটিকে ঢাকার উত্তরায় একটি পরিবারের কাছে দিয়ে দিয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, শিশু হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো লিখিত সম্মতিপত্র, আইনগত প্রক্রিয়া কিংবা চিকিৎসাগত ছাড়পত্র কেন দেখাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রিজিয়া (প্রাঃ) মেমোরিয়াল হাসপাতালের পরিচালক ডা. আইয়ুব আলী প্রথম আলোকে বলেন, অপারেশনের পর মা ও নবজাতক দু’জনই সুস্থ ছিলেন। আমি কোনো ছাড়পত্র দিইনি। কীভাবে শিশুটি হাসপাতাল থেকে বের হয়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

 

স্থানীয়দের বক্তব্য: এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়

 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হাসপাতালটিকে ব্যবহার করে নবজাতক পাচারের মতো অপরাধ করে আসছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান। আইনের দৃষ্টিতে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি মানব পাচার ও শিশু বিক্রির গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

 

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী নবজাতক পাচার দণ্ডনীয় অপরাধ

 

দণ্ডবিধি ১৮৬০–এর ৩৭২ ও ৩৭৩ ধারায় শিশু বিক্রি ও কেনাবেচা শাস্তিযোগ্য শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মচারীদের অপরাধ প্রমাণিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তদন্তে প্রমাণ হয় যে শিশুর মা বা স্বজনেরা অর্থের বিনিময়ে সম্মতি দিয়েছেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

 

এ ঘটনায় দ্রুত মামলা গ্রহণ, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বাস্থ্য বিভাগের নিরপেক্ষ তদন্তেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

 

সুত্রঃ দৈনিক চেতনায় বাংলাদেশ – 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর