“অনন্ত দহনের শুভ্রতা”
-খ্রীষ্টিনা জ্যোতি মন্ডল
ছায়া হয়েই থেকো সদাই,
নিভৃত অস্তিত্বে লীন,
আমি না হয় স্নিগ্ধতা ছড়াবো—
অমোঘ ও অন্তহীন।
যেখানে মহাকালের পলি জমেছে বিস্বাদ বিচ্ছেদে,
সেথা আমি সুর তুলবো একাকী,
নিঃশব্দ কোনো খেদে।
জানি,
প্রাচীন বটবৃক্ষের নিবিড় সেই ছায়াতলে—
মধুর স্নিগ্ধতা ফুরিয়েছে আগে,
কালান্তরের তলে।
স্মৃতিরা আজ জীর্ণ পত্রপল্লব,
ধূসরিত মরুভূমি,
তবু সেই শূন্যতায় আমার বৈরাগ্য জুড়ে আছ তুমি।
তবু ক্রুশবিদ্ধ হওয়া যীশুর সেই চরম যাতনার—
মতনই চির সত্য, সুভ্রূ, পবিত্র এ ভালোবাসা আমার।
রক্তক্ষরণেই যার সার্থকতা,
যন্ত্রণাতেই যার মুক্তি,
ললাটে লিখেছি এই প্রেম—
এক অবিনাশী দৈব উক্তি।
তুমি থেকো বিমূর্ত ছায়া,
স্পর্শাতীত কোনো এক মায়া,
আমি হবো সেই ধূপ,
যে দহনে খুঁজে পায় আপন কায়া।
আমাদের এই আর্তি মর্ত্যের নয়,
এ এক স্বর্গীয় দাহ,
অশ্রুর তর্পণে পবিত্র হোক এই চিরন্তন প্রেম-প্রবাহ।
১৯ এপ্রিল ২০২৬।
৬ বৈশাখ ১৪৩৩ (বঙ্গাব্দ)।