শরীয়তপুর প্রতিনিধি মোঃ নুরুল করিম
কুরবানির ঈদ এখন আর মাত্র ১৭-১৮ দিন দূরে। আর সেই আগমনী আভাসেই জমজমাট হয়ে উঠেছে শরীয়তপুরের ঐতিহ্যবাহী মনোহর বাজারের গরুর হাট। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘মনোরা বাজার’ নামেও পরিচিত। সোমবার (১১ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটজুড়ে কুরবানির গরু কিনতে আসা ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম পুরো হাট এলাকা।
শরীয়তপুরের জজকোর্ট এলাকা থেকে মাত্র ১০ টাকা অটোরিকশা ভাড়ায় পৌঁছে যাওয়া যায় এই মনোহর বাজারে। বিশাল এক মাঠজুড়ে সারা বছরই এখানে গরু কেনাবেচা চলে। প্রতি সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকেল তিনটা পর্যন্ত চলে এই হাট। তবে মূল বেচাকেনার সরগরম সময়টা হলো সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে।
হাটটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট নানা দোকানপাট। গরুর রশি, খাওয়ানোর পাত্র, পশুখাদ্যসহ কুরবানির গরুর জন্য প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী সহজেই পাওয়া যায় হাটের আশপাশেই। এছাড়াও হাটের পাশেই রয়েছে মিনারযুক্ত একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতারা নামাজ আদায়ের সুযোগ পান।
সোমবারের এই হাট সারা বছরই বসে। সাধারণ সময়ে গৃহস্থালির কাজে দুধেল গাই, বাছুর, ষাঁড় ও বলদসহ নানা ধরনের গরু কিনতে ক্রেতারা ভিড় জমান এখানে। তবে কুরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসলে হাটের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। ক্রেতা-বিক্রেতার চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায় এবং ঈদের আগের সোমবার থেকে শুরু করে ঈদের দিন পর্যন্ত হাট টানা চলতে থাকে।
এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। হাটে আসা কুরবানিদাতারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে গরুর বয়স যাচাই করছেন, শরীর পরীক্ষা করছেন এবং সুস্থ ও নিখুঁত গরু বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে গ্রামের গৃহস্থরাও কুরবানির উদ্দেশ্যে লালন-পালন করা গরু নিয়ে হাটে আসছেন বিক্রির আশায়। প্রাণবন্ত দরদাম, হাঁকডাক আর গরুর ডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো মাঠ।
কুরবানির বাজারে মানসম্পন্ন গরু যত কাছাকাছি পাওয়া যায়, ততই ক্রেতাদের স্বস্তি। আর সেই হিসেবে মনোহর বাজার শরীয়তপুরবাসীর কাছে বরাবরই ভরসার নাম। আগামী কয়েকটি সোমবার এই হাটে ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।