1. gangchiltvip@gmail.com : admin :
কেশবপুরে অবৈধ প্যারামেডিকেল প্রতিষ্ঠান সিলগালা - Gangchil TV
May 12, 2026, 11:37 am

কেশবপুরে অবৈধ প্যারামেডিকেল প্রতিষ্ঠান সিলগালা

Reporter name :
  • আপডেটের সময়: Monday, May 11, 2026
  • 39 সময় দেখুন

কেশবপুরে অবৈধ প্যারামেডিকেল প্রতিষ্ঠান সিলগালা

জাল সনদ ও অনুমোদনহীন প্রশিক্ষণের অভিযোগ, কোটি টাকার প্রতারণার আশঙ্কা

জেমস আব্দুর রহিম রানা:

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় সরকারি অনুমোদন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিচালিত একটি প্যারামেডিকেল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জাল সনদ বাণিজ্য, প্রতারণা এবং অনুমোদনবিহীন স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠছিল।

রবিবার (১০ মে ২০২৬) দুপুরে যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে কেশবপুর শহরের মাইকেল মোড়ে অবস্থিত “প্যারামেডিকেল এন্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ) বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়” নামের প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন কোর্সে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে আসছিল। অথচ প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ডিএমএফ, ডিএমএ, ডিএমএস, ডিএইচএমসি, ডিএনএ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এক্স-রে, ডেন্টাল ও নার্সিংসহ মোট ৫৬টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার নামে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। প্রতিটি কোর্সে ভর্তি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি দেশব্যাপী প্রায় ১০৯টি শাখা অফিস গড়ে তুলে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বেকার যুবক-যুবতীদের টার্গেট করে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। লিফলেট, ব্যানার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সভা-সেমিনারের মাধ্যমে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে রেকসোনা খাতুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জাল সনদ বিক্রি ও প্রতারণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এ. কে. আজাদ ইকতিয়ারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে পুনরায় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতেই সর্বশেষ এ অভিযান পরিচালিত হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালে খুলনার জয়েন্ট স্টক থেকে একটি প্রাথমিক নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও পরবর্তীতে স্বাস্থ্যশিক্ষা সংশ্লিষ্ট কোর্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন গ্রহণ করেনি। অথচ “সরকার অনুমোদিত” দাবি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন,

“অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে সিলগালা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ অনুমোদনের কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারে, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সচেতন মহল বলছে, অনুমোদনহীন প্যারামেডিকেল ও স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে প্রতারিত হবে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। একই সঙ্গে ভুয়া সনদধারীদের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর