ঢাকা সংবাদদাতাঃ
গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগ কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন আহত এবং ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ডুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. রাবেয়া নাসরিন আকন।
তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘আজ ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ঘটনায় মোট ১৮ জন আহত হয়ে আমাদের এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। এছাড়া আরও একজনের অবস্থা ভালো নয়, তাকেও পাঠাতে হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আহতদের বেশিরভাগই মাথায় আঘাত নিয়ে এসেছেন। এছাড়া চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ঘটনা রয়েছে। চারজনের সিপিআর ইনজুরি ছিল। বাকি যারা আছেন, তারা চিকিৎসাধীন এবং বর্তমানে তুলনামূলক ভালো অবস্থায় রয়েছেন।’
এর আগে রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টার দিকে ডুয়েটে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
গত ১৪ মে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইকবালক হোসেনকে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগের পরেই সেই দিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর আন্দোলন শুরু করে একদল শিক্ষার্থী।
এমনকি রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে তালা দেওয়া হয়। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে লাল কার্ড কর্মসূচি পালন করছিলেন সেই শিক্ষার্থীরা।
তাদের দাবি, আন্দোলন চলাকালে বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা ডুয়েট এলাকা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগতদের হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দাবি, ‘বহিরাগত’ কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এজন্য তারা ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন।
গাজীপুর সদর মেট্রোপলিটন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, আমিসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।