শরীয়তপুর প্রতিনিধি,
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে পদ্মা সেতু জাদুঘর। সোমবার সকালে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা প্রান্তে পদ্মা সেতু সংলগ্ন টোল প্লাজা এলাকায় এই জাদুঘরের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে “বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুর রহমান কিরণ, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু এবং মোহাম্মদ রাজিব আহসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাদুঘরটিতে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিটি ধাপের বিস্তারিত ইতিহাস, দুর্লভ আলোকচিত্র, মূল প্রকৌশল নকশা, নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ এবং বিভিন্ন তথ্যচিত্র সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে আধুনিক প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, পদ্মা সেতু শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, এটি গোটা জাতির স্বপ্ন ও সংগ্রামের ফসল। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, “শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, টেকসই উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, এই জাদুঘর নির্মিত হলে আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে কতটা সংগ্রাম ও পরিশ্রমের বিনিময়ে দেশের সবচেয়ে বড় এই অবকাঠামো গড়ে উঠেছে।
এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের এই পরিকল্পনা অবশেষে বাস্তবে রূপ নেওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা মনে করেন, জাদুঘরটি চালু হলে শরীয়তপুরসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন শিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার হবে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।